পাহাড়ের ভয়ংকর শিক্ষক সোহেল রানা !

খাগড়াছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের(টিএসসি) শিক্ষক সোহেল রানার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার বিষয় সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ায় এখন পাহাড়ে জুঁড়ে আলোচনার বিষয়। তিনি শুধু খাগড়াছড়িতে নয়, পূর্বে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করাকালীন কর্মস্থলে ছাত্রীদের সাথে এই ধরণের ঘটনা ঘটালেও এবার ও দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের কাছে এই ছাত্রী অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় আজ মঙ্গলবার (২ মার্চ) বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর থানায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মুহম্মদ রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আয়োজিত মানববন্ধন থেকে, অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইনী প্রক্রিয়া শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মুহম্মদ রশীদ মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ ঘটনার তদন্ত শুরু হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই ছাত্রীকে অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানা অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নীপিড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ করার পর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ১ মার্চ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে সোহেল রানা ২০০৬ সালের ১৩ মে থেকে ২০১১ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত রানা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর হোসনেবাদ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের(টিএসসি) বিল্ডিং ট্রেড বিভাগের জুনিয়র ইন্সট্রাকটর থাকা কালে ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে ২২জন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করলে তাকে লক্ষিপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে বদলি করা হয়, এর পর সেখান থেকে তিনি খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে যোগ দেন।

এদিকে খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এই পাহাড়ি ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী শিক্ষক মো. সোহেল রানাকে দ্রুত গ্রেফতার করে যথাযথ শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর কেন্দ্রিয় সভাপতি নিরূপা চাকমা।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের কিছু লম্পট শিক্ষক দ্বারা পরীক্ষায় ফেল করে দেয়, নম্বর কম দেয়ার ভয় দেখিয়ে অতীতেও বহুবার ছাত্রীদের উপর এ ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। প্রশাসন বরাবরই অপরাধীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে তাদেরকে রক্ষা করেছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।