পাহাড়ে রূপের মহিমা ছড়াচ্ছে স্বর্ণলতা

বাংলাদেশের প্রতিটি ঋতুই ভিন্ন রূপবৈচিত্র্য নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতিতে। বাংলাদেশের প্রকৃতিতে সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে যে কয়েকটি লতা, তাদের অন্যতম হচ্ছে স্বর্ণলতা বা আলোকলতা। বাংলার পথে প্রান্তরে আপন রূপের মহিমা ছড়ায় দৃষ্টিনন্দন লতানো এই গাছ।

দেশের সব জায়গায় দেখা যায় স্বর্ণলতা। গ্রামে বসবাসকারী বা গ্রামে যাওয়া আসা করেন এমনসব মানুষ এই লতাটিকে চেনেন। পরজীবী এই উদ্ভিদ বেশিরভাগ দেখা যায় বড়ই গাছের কাণ্ডে। এর সবুজাভ সোনালি উজ্জ্বল রঙ বহুদূর থেকে নজর কেড়ে নেয় দর্শকের।

এই লতিকার বেড়ে ওঠা ভরা মৌসুম মূলত পৌষ থেকে চৈত্র মাস। তবে এই সময়ের আগে-পরেও এই তৃণলতা জন্মে। ভরা মৌসুমের বাইরেও বেঁচে থাকে স্বর্ণলতা।

পৌষের শিশিরভেজা মৃদু বাতাসে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার হলুদ রঙের গালিচায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে আলোক লতা। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে দীঘিনালা উপজেলার দীঘিনালা-লংগদু সড়কের পাশে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ঝুরি ঝুরি হলদে সুতা ঝুলে আছে। এর ওপর রোদ পড়লে চকচক করে। শীতের পাতাঝরা প্রকৃতিতে মোহনীয় সৌন্দর্য ছড়ায় আলোকলতা। তবে গ্রামে এখন খুব কমই দেখা যায় এ আলোকলতা।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আলোকলতা একটি পরজীবী উদ্ভিদ। গাছেই এর জন্ম, গাছেই বেড়ে ওঠা, বংশবিস্তার। কোনো পাতা নেই, লতাই এর দেহ-কাণ্ড-মূল সব। সোনালি রঙের চিকন লতার মতো বলে এরূপ নামকরণ।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি অফিসার নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, জীবন্ত গাছে জন্ম নিয়ে পরগাছকে অবলম্বন করে টিকে থাকে। যে গাছে জন্মায় সে গাছের ডাল ও কাণ্ড থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার করে। পৌষ ও চৈত্রে এ লতা বেড়ে ওঠে। অপর গাছকে কেন্দ্র করে জালের মতো বিস্তার ঘটায়। সুদৃশ্য এই আলোক লতার এখন ভরা মৌসুম।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।