পাহাড়ে সরকারি সহায়তায় হবে ২৬০০ মসলা বাগান

দারুচিনি, আলুবোখারা, গোলমরিচ, জুমমরিচ, ধনিয়া, বিলাতি ধনিয়া, তেজপাতাসহ উচ্চমূল্যের মসলার দুই হাজার ৬০০ বাগান হবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে। এজন্য কমপক্ষে এক একর নিস্কণ্টক জায়গা আছে এমন কৃষকদের নির্বাচন করা হবে। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ (বিএডিসি) অন্যান্য সংস্থা থেকে বীজ ও চারা সংগ্রহ করে সরবরাহ করা হব তাদের মাঝে। আগামী তিন বছরের মধ্যে বাগান তৈরি কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর কৃষকদের কাছে এসব বাগান হস্তান্তর করা হবে।

এ লক্ষ্যে ৪৭ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের জুনের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান) জেলার ২৬ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, দেশে গত ২৫ বছরে মসলার উৎপাদন প্রায় ১০ গুণ বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে এর চাহিদা। ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে মসলার দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

বর্তমানে ৪০ শতাংশ মসলার চাহিদা পূরণ করা হয় আমদানির মাধ্যমে। দেশে উৎপাদনের পরিমাণ ৩৫ লাখ টনেরও বেশি। প্রতি বছর অতিরিক্ত ১৪ লাখ টনের চাহিদা পূরণ করা হয় আমদানির মাধ্যমে। উচ্চমূল্যের মসলার মধ্যে দারুচিনি আমদানি হয় প্রায় ১১ হাজার টন। আর গোলমরিচ আমদানি করতে হয় প্রায় দেড় হাজার টন। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পার্বত্য এলাকার জমি মসলা জাতীয় ফসল ও ফলের বাগানের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকার অনেক পাহাড়ি ভূমি এখনও আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট ভূমির প্রায় ২২ শতাংশ উদ্যান ফসলের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এ এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও আবহাওয়া বিবেচনায় এখানে উদ্যান ও মসলা চাষ করে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্র বগুড়া ও গাজীপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকতারা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল সরেজমিন পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে এ অঞ্চলে সম্ভাবনার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে মসলা ফসলের উৎপাদন অনেকাংশে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকল্প-সংশ্নিষ্টরা জানান, এসব বাগান পরিচর্যার জন্য জৈব সারের পিট তৈরি করা হবে এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বাগান তৈরি করা হবে বলে সহজে বহনযোগ্য ও সংরক্ষণ করা যাবে এ ধরনের মসলা নির্বাচন করা হয়েছে। মসলার বাগার তৈরি হওয়ার পরে ফসল ওঠানোর আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে কৃষকের কিছুটা আয়ের সুযোগ করে দিতে সাথী ফসল হিসেবে পেঁপে ও সবজি চাষের ব্যবস্থা রাখা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে বৈঠকে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রীর দপ্তরে। প্রকল্প ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এর অনুমোদন দেবেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।