পুষ্টির অভাব থেকে মুক্তি মিলবে লামার ৩০০ কর্মজীবি মা শিশুর

একজন সুস্থ্য সবল,আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও সচেতন মা’ই পারেন একটি সুস্থ্য শিশুর জন্ম দিতে এবং স্বাস্থ্য সম্মতভাবে লালন পালন করতে। এটিকে সামনে রেখে সরকার দরিদ্র কর্মজীবি দুগ্ধদায়ী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির উন্নয়নে চালু করেন ‘কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা’ প্রকল্প। আর এ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবানের লামা পৌরসভা এলাকার ৩০০ কর্মজীবি মা পেল এ সহায়তা। সম্প্রতি সহায়তা ভাতার চেক বিতরণ করে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।
পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি। ভাতা পাওয়ার মধ্য দিয়ে মা ও শিশুর যেমন পুষ্টির অভাব ঘুছবে তেমনি পরিবারে স্বচ্ছলতা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লামা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক গৃহীত একটি অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তামুলক কার্যক্রম হলো ‘কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল’। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে শহরাঞ্চলে কর্মসূচীটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাল্য বিবাহ ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনরোধ কল্পে শুধু মাত্র ২০ বছরের অধিক বয়সী কর্মজীবী গর্ভবতী / দুগ্ধদায়ী মায়েদের ক্ষেত্রে প্রথম, দ্বিতীয় গর্ভের সন্তান গর্ভাবস্থায় বা সন্তান প্রসব হতে ৩৬ মাসের জন্য জীবনে একবার মাসে ৮শ’ টাকা হারে এ ভাতা পাবেন।
উপকারভোগীরা ইতিপূর্বে দু’বছর মেয়াদে ৫শ’ টাকা হারে বর্তমানে ৩ বছর মেয়াদে এ ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন। জুলাই ১৮ থেকে ৮শ’ টাকা হারে একজন মা সর্বমোট ২৮ হাজার ৮শ’ টাকা পাবেন। প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৩ শ’ মায়ের মাঝে ২০১৭-১৮ চক্রে ৩ হাজার টাকা করে চেক বিতরণ করা হয়েছে। একই প্রকল্পের অধীন মায়েদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এসকল প্রশিক্ষনে উপকার ভোগীরা মা ও শিশু স্বাস্থ্য, খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ধারনা পাচ্ছেন। প্রকল্পের উপকারভোগী রোকেয়া ও মাছাইনুর মত অনেকেই এখন বুঝেন পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব। তারা প্রকল্পের মেয়াদ এবং ভাতার পরিমান বৃদ্ধি করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১২৭ জন হারে ৮৮৯ জন মা পাচ্ছেন মাতৃত্বকালিন ভাতা।
প্রকল্পের উপকারভোগী রোকেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। যা আয় করেন, তা দিয়ে পরিবারের দু’বেলা দু’মুঠো খাবার যোগাড় করতে হিমসীম খেতে হয়। এতে আমার ও তার সন্তানের পুষ্টিকর খাবারের বিষয়টি নিশ্চিত করা স্বামীর পক্ষে কষ্টসাধ্য। কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা প্রকল্পের উপকারভোগী হিসেবে ভাতার চেক গ্রহন করে পরিকল্পনার কথা জানান রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা প্রকল্প হতে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। প্রতি ৬ মাস পর পর তিনি এ ভাতা পাবেন। একই প্রকল্পের অধীনে তিনি প্রশিক্ষণও পেয়েছেন। তিনি এখন বুঝতে পারছেন পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব কি। তাই প্রশিক্ষনের আলোকে ওই টাকা দিয়ে তিনি পুষ্টিকর খাবারের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। তার জন্য তিনি দেশীয় জাতের মুরগী লালন পালন করবেন। সেখান থেকে ডিম ও মাংসের মাধ্যমে তার পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা মিটবে। একই সাথে বাড়তি ডিম ও মুরগী বিক্রি করে পরিবারে আসবে আর্থিক স্বচ্ছলতা। একই সুরে কথা বললেন, লামা মুখ এলাকার মাছাইনু মার্মাও।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আতিয়ার চৌধুরী জানান,সরকারের বিশেষ দু’টি প্রকল্প হচ্ছে শহরাঞ্চলে ‘কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা’ প্রকল্প এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মাতৃত্বকালিন ভাতা প্রকল্প। তিনি বলেন, দরিদ্র কর্মজীবী ২০ বছরের অধিক বয়সী মা, যিনি বাচ্চাকে ব্রেষ্ট ফিডিং করাচ্ছেন তিনি কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা ভাতা পেয়ে থাকেন।
পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র নিরসনে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দারিদ্র মা ও শিশুর পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে ‘কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার’ প্রকল্প একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তামুলক প্রকল্প। এ প্রকল্পের উপকার ভোগীদের যেমন মা ও শিশুর পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।