বর্ষায় বান্দরবানের রুপ

[mom_video type=”youtube” id=”ONr1aH5JSCU”]
news10সারি সারি সবুজ পাহাড় ঘেরা মেঘের আড়ালে হারিয়ে যেতে নেই মানা। বৃষ্টির সময় প্রাকৃতি যেন তার সবটুকু রূপ ঢেলে দিয়েছে, বান্দরবানকে। এই সারি সারি সবুজ গালিচার ওপর আপনার আগমণে যোগ হবে ভিন্ন মাত্রা।

বর্ষায় এক ভিন্ন রূপেই দেখা যায় এই পর্যটন শহরকে। আমাদের দেশের ভ্রমণ প্রিয়াসুরা ভ্রমণের জন্য শীত মৌসুমকে উপযুক্ত হিসাবে বেছে নেয়। হয়ত অনেকেই জানেন না বৃষ্টির সময়ে পাহাড় ঘেরা জেলাটি যেন একটি সবুজ কার্পেটের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যেদিকে দু’চোখ যাবে সবুজে সবুজে বর্নিল এক নতুন সাজে ধরা দেবে আপনার কাছে।

অবিরাম বর্ষণের জলধারার পরশে পাহাড়ের বৃক্ষরাজি নব যৌবন লাভ করে। মেঘ আর পাহাড়ের সম্পর্কের কথা তো নতুন করে বলার কিছুই নেই। তবুও বলতে হয়, পাহাড়ের সাথে আকাশের সারি সারি মেঘ-ভেলার সর্ম্পকের নতুন মাত্রা এনে দেয় এই ঝুম বরষার সময়। পাহাড়ের বুক চিরে শত শত ঝর্না ধারা আপনাকে নিয়ে যাবে যেন কোন অচেনা ও নতুন কোন রাজ্যে ।

এছাড়া শহরের কাছের নীলআচল, চিম্বুক, জীবননগর আর নীলগিরির ওপর দাঁড়িয়ে মেঘ স্পর্শ করার ইচ্ছে হলে আপনাকে অবশ্যই ভ্রমণের জন্য বেছে নিতে হবে বান্দরবানকে।

নিশ্চয় মন চাইছে মেঘের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে। তবে আর দেরি কেন, জীবনের ছক থেকে বেরিয়ে হারিয়ে যেতে পারেন নীলাচলের মেঘে ঢাকা পাহাড়ে, মেঘলা লেকের স্বচ্ছ জলে, ভাসাতে পারেন ডিঙ্গি নৌকা অথবা ঘুরে আসতে পারেন চিম্বুক পাহাড়ের ¤্রাে আদিবাসীদের গ্রামে। ক্লান্ত শরীরকে জুঁড়িয়ে নিতে পারেন এই আদিবাসীদের মাচাং ঘরে। এছাড়া কৃষি প্রধান দেশের বিভিন্ন জেলার চাষাবাদেও চেয়ে পাহাড়ে ভিন্ন চাষাবাদ জুমচাষ আপনার নজর কারবে নি:সন্দেহে।

শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে দেখতে পাবেন মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স। আর ১৮শ’ ফিট উঁচু নীলাচল থেকে সবুজের চাদরে ঢাকা বান্দরবানকে। বান্দরবান-চিম্বুক রোডের ৮ কিলোমিটারে রয়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা শৈল প্রপাত। ঝর্ণা থেকে গড়িয়ে পড়া জলরাশির ¯্রােতের কারনে বিপদজনক হয়ে ওঠা ঝর্নায় না নামাই ভালো।

২৬ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বাংলার দার্জিলিংখ্যাত চিম্বুক পাহাড়। এই ধরণের শত শত পাহাড় তার রুপ প্রদর্শনে ভিন্ন বাহার নিয়েই যেন আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। এই পাহাড়গুলোতে না উঠলে বান্দরবান ভ্রমণের মূল আনন্দই অধরা থেকে যাবে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা ভারতের দার্জিলিংয়ে বেড়াতে যান। অথচ পর্যাপ্ত আধুনিক সুযোগ সুবিধা বাড়ালে এবং জেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো আরও উন্নত করা গেলে আমাদের বান্দরবানের সৌন্দর্য ভারতের দার্জিলিংকেও হার মানাবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।