মাটিরাঙ্গায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ : সংঘর্ষে আহত ৫

মাটিরাঙ্গায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা
মাটিরাঙ্গায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত: পাঁচ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের দায়ের করা পৃথক মামলায় মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ দুই পক্ষের দুইজনকে আটক করেছে। গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৯টার দিকে হাতিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলো, আবদুল গাফফার প্রকাশ গাফফার মেম্বার (৬২ মো: শাহেদ হোসেন (৩৮), এবং অপরপক্ষের সাপিয়া বেগম ও সুমি আকতার। অহতদের মধ্যে প্রথম তিনজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। অন্য দুইজন মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, আবদুল গাফফার প্রকাশ গাফফার মেম্বার জনৈক লিটন এর কাছ থেকে মাটিরাঙ্গার ২০১নং ধলিয়া মৌজার ২৮৫নং হোডিংয়ের ৫ একর জমি আঞ্চলিক দলিলমুলে ক্রয় করেন। যা তিনি বাগান সৃজনপূর্বক ভোগদখলে বিদ্যমান আছেন। সম্প্রতি জনৈক ইদ্রস সর্দারের ছেলে মো: আবদুল্লাহ এ জমির মালিকানা দাবী করে জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্ঠা চালায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় পর্যায়ে কয়েক দফা সালিসের উদ্যোগ নেয়া হলেও মো: আবদুল্লাহ উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি।

ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পিত ভাবে মো: আবদুল্লাহ ঐ জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে গাছ-গাছালি কেটে ঘর তৈরী করার খবর পেয়ে মো: আবদুল গাফফার ঘটনাস্থলে গেলে মো: আবদুল্লাহ ও তার ছেলে মো: শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে ১৫/১৬জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে স্বজ্জিত হয়ে তার উপর হামলা চালিয়ে তাকে মারাত্বকভাবে আহত করে। এসময় চাচার উপর হামলার খবর পেয়ে তার দুই ভাতিজা মো: মিলন হোসেন ও মো: শাহেদ হোসেন ঘটনাস্থলে আসা মাত্র তাদের উপরও হামলা করে সংঘবদ্ধ চক্রটি। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদেরকে এলোপাথারি কুপিয়ে মারাত্বক জখম করে।

স্থানীয় কাউন্সিলর মো: আলাউদ্দিন লিটনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুল গাফফার, মো: মিলন হোসেন ও মো: শাহেদ হোসেনকে উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। বর্তমানে তিনজনই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে পারিবারিকসুত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আবদুল গাফফার প্রকাশ গাফফার মেম্বার“ বাদী হয়ে ১০ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনের নামে মাটিরাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১। অন্যদিকে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ‘র স্ত্রী রহিমা বেগম বাদী হয়ে আরো একটি মামলা করেন।

এবিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মো: আলাউদ্দিন লিটন জানান, এলাকাবাসীর নিকটে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্বুদ্ধ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আমার উপরও হামলার চেষ্টা করে।

এদিকে এবিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল গাফফারের ছেলে মো: ফজলে রাব্বি রাজু অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাদের সম্পত্তি দখলের উদ্দ্যেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে।

মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষই দুটি মামলা দায়ের করেছে, মামলায় দুই পক্ষের দুইজনকে আটক করা হয়েছে, অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।