রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে রাতের আঁধারে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হানা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ করে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে একদল অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। উন্নয়ন প্রকল্পে নিযুক্ত শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তারা অন্তত ১৫টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
শ্রমিকরা জানান, কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ক্যাম্পাসে নির্মান কাজে অবস্থান করা শ্রমিকদের ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে, মোবাইল, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং চাঁদা না দিলে নির্মান কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। হঠাৎ এই ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানান, “ঘটনার পর আমাদের নির্মাণ প্রকল্পের শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলমান নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে পূর্বেও দুটি সশস্ত্র সংগঠনের চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা দিতে বাধ্য হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদার অঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “রাবিপ্রবিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মহড়া ও চাঁদাবাজি পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাই প্রমাণ করে, সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার করেছে।



