যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় যেখানেও ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং
কাপ্তাই
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। যে কেন্দ্র হতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়। কিন্তু এই কাপ্তাই উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে অর্ধেকেরও সময় বিদ্যুৎ থাকে না, এই যেন আলোর নিচে অন্ধকার। এই লোডশেডিং এর ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। চলতি এপ্রিল মাস হতে সারা দেশের ন্যায় কাপ্তাইয়ে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষা চলাকালীন সময় প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ যাওয়া আসার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়া লেখায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
কাপ্তাই উপজেলার ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়ন এর শিল্প এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী পাভেল হোসেন এবং উপজেলা সদর বড়ইছড়ি মারমা পাড়ার হ্লাউও মারমা বলেন, একদিকে গরম আর একদিকে তীব্র লোডশেডিং চলছে। রাতে কিংবা দিনে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়।যার ফলে প্রচন্ড গরমে পড়া হয়না। এর জন্য আমাদের পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হতে পারে।

এই সময় কথা হয়, অভিভাবক আঁখি তালুকদার, খোকন দাশ এবং উমেচিং মারমার সাথে, তাঁরা বলেন, প্রতিনিয়ত লোডশেডিং হওয়ার দরুণ আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারছে না। আমরা চাই পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎতের যেন লোডশেডিং না দেয়।
কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম এর সাথে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮ টায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের দুটি লাইন একটা বন্ধ করে আবার একটা চালু করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। গতকাল রবিবার হতে লোডশেডিং কমে এসেছে। তবে ঝড় বৃষ্টির কারনে মাঝে মাঝে সঞ্চালন লাইন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতে কোন সমস্যা না হয় বিষয়টি আমরা দেখছি।
এদিকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করা হলে এখানকার দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, বিগত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রের ৫ টি ইউনিট হতে শুধুমাত্র ১’টি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও আজ সকাল ৫ টা ১৭ মিনিট এ চলমান কেন্দ্রের ২ নং ইউনিট প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এসময় ঐ ইউনিট হতে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। যেখানে ৫ টি ইউনিট হতে সর্বোচ্চ ২ শত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।



