রামগড় পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে মসজিদের কোটি টাকা কুক্ষিগত করার অভিযোগ

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার মেয়র কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান রিপনের বিরুদ্ধে সোনাইপুল মসজিদের কমিটি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই আপন দুই সহোদর।

গত মঙ্গলবার মসজিদের সাধারণ সভায় এসব অভিযোগ করেন মসজিদের ভূমিদাতা (মেয়র ও অভিযোগকারীদের পিতা) সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী রুহুল আমিনের ছেলে কাজী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইসলাম শাহেদ এবং কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুল।

আছরের নামাজের পর এলাকার সকল মুসল্লী,গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী শাহাজান রিপন, সাধারণ সম্পাদক রবি মজুমদার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাহার উল্লাহ মজুমদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এরশাদ উল্লাহ, জসীম চৌধুরী এবং সোনাইপুল বাজার কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম সাহেদ।

সাধারণ সভায় দীর্ঘদিন ধরে কমিটি আটকিয়ে রেখে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন কমিটির সভাপতি পৌর মেয়র ও মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহাজাহান রিপন বলেন, তাঁর সময়েই মসজিদের জায়গা বৃদ্ধির জন্য দশ শতক জায়গা কেনা হয়েছে এবং মসজিদে আধুনিক শীততাপ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। রামগড় স্থল বন্দরের ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।

মসজিদ কমিটির সভাপতির বক্তব্যের বিরোধীতা করে তাঁর ভাই কাজী শাহরিয়ার ইসলাম শাহেদ বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে কমিটি আটকিয়ে রেখে উন্নয়ন মূলক কাজের নামে নানা রকম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে কমিটির সভাপতি। এই ১৪ বছরে একবারের জন্যও মসজিদের আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব দেননি। স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে মসজিদের জায়গা ক্রয় এবং শীততাপ যন্ত্র লাগানোর নাম করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন কমিটির নির্বাচন না হওয়ায় মসজিদের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে গেছে বলে জানান। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, স্থল বন্দরের জন্য মসজিদের জায়গার ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই কোটি বাষট্টি লক্ষ টাকা বর্তমান সভাপতির অধীনে নিয়ে আসলে সেটি তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর (মেয়র) পৌর নির্বাচনের খরচের জন্য ব্যবহার করবেন বলে অভিযোগ করেন কাজী শাহরিয়ার।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক বরাবর এক লিখিত অভিযোগে কাজী শাহরিয়ার ইসলাম শাহেদ ও কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুল উল্লেখ করেন, মসজিদের জন্য তাঁদের পিতার দানকৃত জায়গার পঁয়ত্রিশ শতক ভূমি রামগড় উপজেলা এক্সেস লোড স্টেশন কন্ট্রোলার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পড়েছে। জায়গা বাবদ তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যে ক্ষতিপূরণ পাবেন তা বর্তমান সভাপতির হাতে তুলে না দিয়ে সমাজের গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে মসজিদ ফান্ডে দান করবেন।
লিখিত অভিযোগে শাহেদ তাঁর বড় ভাই পৌর মেয়র ও মসজিদ কমিটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শাহাজাহান রিপন ও তাঁর অপর ভাই জিয়াউল হক শিপনের বিরুদ্ধে তাঁর পিতার জায়গা বাবদ ক্ষতিপূরণের ০.০৬ ন(ছয় শতক) ভূমির ৪২৬৭০০০(বেয়াল্লিশ লক্ষ সাতষট্টি হাজার) নটাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করেন।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাহার উল্লাহ মজুমদার মসজিদ কমিটি নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদন ধরে এই কমিটির কোন মিটিং হয়না। মসজিদ কমিটির বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করায় তাঁর উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। প্রাণের ভয়ে তিনি রামগড় থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন।

রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইস- চেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক তার বক্তব্যে বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর।কোন বিশৃঙ্খলা না করে সকলকে ধৈর্য্য ধরে সুন্দর সমাধানের আহবান জানান।

দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় এমন অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন।তিনি উপস্থিত সমাজের সকলকে অনুরোধ করে বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করতে। মসজিদ কমিটির অনেকেই বেঁচে নেয়। এই অবস্থায় নতুন করে মসজিদ কমিটি গঠন ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে মসজিদ কমিটির সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা গুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদারে মসজিদের বাইরে পুলিশ এবং বিজিবির সমন্বয়ে যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে মুসল্লীদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মসজিদ কমিটির বিরোধকে কেন্দ্র করে যেন কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি না হয় এজন্য বাড়তি নিরপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।