রাসেলের খুনীদের গ্রেফতারের দাবি জানালেন খাগড়াছড়ি ছাত্রলীগ

জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের দলীয় কার্যালয়ে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন
খাগড়াছড়িতে ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা রাসেলের খুনীদের গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা সদরের কদমতলীস্থ জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের দলীয় কার্যালয়ে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি টিকো চাকমার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহ-সভাপতি আমির হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে রাসেল হত্যাকান্ডের জন্য খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম, তার ভাই জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদক বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলমকে দায়ী করা হয়। তাদের নির্দেশে ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রাসেলকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা মামলার আসামী হওয়ার পরও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সাথে রফিকুল আলমের বিভিন্ন সভা সমাবেশে অংশগ্রহণ করা থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী, সহ সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা, মনির খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মংক্যচিং চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, নিহত রাসেলের বাবা নুর হোসেন ও মা খোদেজা বেগমসহ আত্মীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
রণ বিক্রম ত্রিপুরা বলেন, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনের পর থেকে মেয়র রফিকুল আলম ও তার ভাইরা মিলে খাগড়াছড়ির জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীকে হত্যা চেষ্টা করে তারা নিজেদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কায়েম করতে চাচ্ছে।
নিহত রাসেলের মা খোদেজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, রাসেল এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা পক্ষে সমর্থন করায় মেয়রের সন্ত্রাসীরা প্রায় তাকে ঘরে গিয়ে হুমকি দিত। আমার ছেলেকে মেয়রের নির্দেশে তার সন্ত্রাসীরা খুন করেছে। মামলা করার পর এখনও হুমকি দিচ্ছে। আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয় সে জন্য মেয়র ও তার সন্ত্রাসীদের ফাঁসি চায়।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাহাদত হোসেন টিটু বলেন, মামলার এজহারভুক্ত আসামীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদরের মিলনপুর এলাকায় কুপিয়ে জখম করা হয় ছাত্রলীগ নেতা মো: রাসেলকে। আহত অবস্থায় চট্টগ্রামে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এঘটনার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ ও নিহতের পরিবার শুরু থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ খাগড়াছড়ি পৌরসভা মেয়র রফিকুল আলম ও তার অনুসারীদের অভিযোগ করে আসছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।