রুমায় চলতি অর্থ বছরে উন্নয়ন কর্মকান্ড যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে

পাহাড়বার্তা’কে পিআইও মোহাম্মদ আলী নূর

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নের দুর্গম এলাকাসহ রাস্তা মেরামত-সংস্কার পুকুর সংস্কার, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার, সেতু নির্মাণ, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি ও গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। চলতি (২০২০-২০২১) অর্থ বছরে গৃহিত কাজগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে যথাসাধ্য দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয়রা এর সফল ভোগ করছেন। এসব কথা বলেছেন উপজেলা পরিষদের ত্রাণ শাখার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ( পিআইও) মোহাম্মদ আলী নূর।

কাল শনিবার (১০ জুন) দুপুরে পিআইও কার্যালয়ে চলতি অর্থ বছরে উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে এক সাক্ষাৎকার এইসব কথা জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পাহাড়বার্তা’র বিশেষ প্রতিনিধি শৈহ্লা চিং মারমা (রুমা,বান্দরবান)।

পাহাড়বার্তা’কে পিআইও আলী নূর বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী (ইজিপিপি)র অংশ হিসেবে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় চলতি বছরে রুমায় চার ইউনিয়নের গ্রামীণ পুকুর ও রাস্তা সংস্কার- মেরামতের কাজের নয়টি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার বেস্টনি হিসেবে এই নয়টি প্রকল্পে তালিকাভুক্ত ৩২৭ জন শ্রমিকের মধ্যে ৭০ শতাংশ নারী। দৈনিক২০০ টাকায় প্রতিদিন সাত ঘন্টা করে সপ্তাহে পাঁচদিন কাজ করতে হয়। তবে প্রতি প্রকল্পে একজন করে সরদার বা দলনেতা থাকে, তাদের দৈনিক মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২৫০ টাকা পান। এসব শ্রমিকের মজুরি টাকা কোনো চেয়ারম্যান বা সদস্যদের মাধ্যমে না দিয়ে সরাসরি শ্রমিকদের নামে ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়। দুর্গম এলাকার নিয়োজিত শ্রমিকেরা ৪০দিনের কাজ শেষে তাদের নিজ নিজ একাউন্ট থেকে আট হাজার টাকা উত্তোলন করে নিতে পারেন। অনেকে এক সাথে উত্তোলন করে আয়বর্ধনমূলক কিছু কাজ করারও সুযোগ তৈরী হয়েছে বলে জানালেন পিআইও আলী নূর।

তিনি আরো বলেন, এই কর্মসূচী দ্বিতীয় ধাপে ৪০ দিনের কাজ গত ২৪ এপ্রিল শুরু হয়ে ৯জুন শতভাগ শেষ হয়েছে। তবে প্রথম ধাপের কাজ বছর শুরুতে হয়ে গেছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প পরিবর্তন হলেও শ্রমিক পরিবর্তন হয়না।
এই দুই ধাপে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ ছিলো।

পহাড়বার্তা’কে পিআইও আলী নূর বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মসূচির কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিটা- টিআর) আওতায় উপজেলার অনুকূলে তিন পর্যায়ে সরকারের দেয়া বরাদ্ধ এক কোটি ২৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকার ব্যয়ে ৪৮টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে স্থানীয়দের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে তাদের চাহিদার উপর ভিত্তি করে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের মোট ২৬ টি প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কাজ প্রকল্প এলাকার সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি করে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গৃহিত ওইসব প্রকল্পে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, পুকুর সংস্কার, পানি সরবরাহ ও সামাজিক দক্ষতা উন্নয়ন সহ বিভিন্ন খাটওয়ারী প্রকল্প অন্তভূক্ত ছিল।

তৃতীয় পর্যায়ে ১৮টি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। আগামি ৩০জুনের মধ্যে ওইসব কাজও শতভাগ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন পিআইও আলী নূর।

এক প্রশ্নের পিআইও বলেন, কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার প্রতি ৫০০টাকা করে চার ইউনিয়নের মোট ২০০টি পরিবারকে ভিজিডি টাকা বিতরণ হয়েছে। তাছাড়া গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিডি টাকা হিসেবে পরিবার প্রতি ৪৫০ টাকা করে ৬,২০৩ পরিবারকে মোট ২৭ লক্ষ ৯১ হাজার ৩৫০ টাকা বিতরণ করা হয়।

আরেক প্রশ্নে পিআইও মোহাম্মদ আলী নূর বলেন, গৃহহীনদের গৃহদান কর্মসূচির আওতায় ২২০টি গৃহ নির্মাণের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এসব প্রতিটি ঘরের বিপরীতে এক লক্ষ নব্বই হাজর ব্যয় ধরা হয়। তবে প্রক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে বাস্তবে নির্মাণ সামগ্রি কেনার খরচ বেশি উল্লেখ করে পিআইও বলেন, প্রাক্কলণে ধরা আছে কাঠের প্রতিফুটে তিনশত টাকা, তবে বাস্তবে ফুট প্রতি গুনতে হয় সাড়ে চারশত থেকে পাঁচশত টাকা। এসব কারণে গৃহনির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের কঠিন হচ্ছে। তবে বাকী কাজ ৩০জুনের মধ্যে শেষ করতে সার্বক্ষনিক তদারকি করে দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। একাজে সুবিধাভোগী পরিবারকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।