রুমায় ছাত্রলীগের কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজনের রেখা

অনুসারীদের নেতৃত্বে আনতে আওয়ামী লীগ নেতারা তৎপর !

বান্দরবানের রুমায় ছাত্রলীগের কাউন্সিলে পদ প্রত্যাশিদের ফরম সংগ্রহ নিয়ে হুমকির দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আর এর ফলে সন্মেলন যতই ঘনিয়ে আসছে দলীয় বিভাজনে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতারাও।

সন্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে ফরম সংগ্রহের বিষয়ে হুমকির অভিযোগ এনে ছাত্রলীগের এক কর্মী তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে পদ প্রত্যাশিদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা ঝড় ওঠে, আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা ছাত্রলীগে তাদের আনুসারি নেতাদের নেতৃত্বে আনতে এসব গ্রুপিংয়ে গোপনে সমর্থন করছে ।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা ছাত্রলীগ কর্তৃক সন্মেলনের তারিখ নির্ধারণসহ নানা নির্দেশনা দিয়ে আগামী ২১ জুলাই রুমা উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বার্তা দেওয়া হয়। গত সোমবার (১৮ জুলাই) পদ প্রত্যাশিতদের ফর্ম সংগ্রহের শেষ দিন।

সে অনুযায়ী পদ প্রত্যাশি কর্মীরা সংগঠনের বিভিন্ন পদে ফরম সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছেন অনেকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১৭জুলাই) সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী চিংসাপ্রু মারমা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে ফরম সংগ্রহ করে। একথা শুনার পর সন্ধ্যায় আরেক সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশি বিপ্লব বড়ুয়া আরমান ও আরফান উদ্দিন বাধন মুঠোফোনে কল করে চিংসাপ্রু মারমাকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে দাবি করেন। কাউন্সিলের প্রাক্কালে বাক স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্থ করে হুমকি ও ভয়ভীতিতে তার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ সম্পাকের পদ প্রত্যাশি চিংসাপ্রু মারমা। আওয়ামী লীগ ও জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাক পদপ্রত্যাশি বিপ্লব বড়ুয়া ও মো.আরফান বাধন বলেন, মোবাইলে কল করা হলেও কোনো ধরণের হুমকি ও ভয়ভীতি দেয়া হয়নি চিংসাপ্রুকে।

অন্যদিকে বিপ্লব বড়ুয়ার দাবি করেন, সাধারণ সম্পাদকের পদটি থেকে বঞ্চিত করবার অসৎ উদ্দেশ্যে এক পক্ষ তার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে।

আরফান বাধন মুঠোফোনে বলেন, চিংসাপ্রু আমার বন্ধু। ওইদিন সকালেও দুইজনে একসাথে নাস্তা খেয়েছিলেন। তাছাড়া সম্পাদক পদে লড়ছি না। কাজেই খারাপ ব্যবহার করার প্রশ্নই ওঠেনা।

সূত্র জানায়, সভাপতি পদে দুইজন ফর্ম সংগ্রহ করেছে । তারা হলেন, সভাপতি সন্জিত দাশ ও সিংনোয়াই সাং বম। তবে এ পদে আজ সোমবারের মধ্যে আরো দুইজন ফর্ম সংগ্রহ করতে পারে।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছয়জন। এরা হলেন, সিংথোয়াই মং মারমা, অংচোওয়াং মারমা, বিপ্লব বড়ুয়া আরমান, রাজীব সিকদার, অংকন দাশ ও চিংসাপ্রু মারমা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,রুমা ছাত্রলীগের কাউন্সিল কে কেন্দ্র করে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার গ্রুপিং লবিংয়ে তৎপর পদ প্রাত্যাশিরা। মূলত; একারণে একে অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করছেন পর্যবক্ষকরা। ছাত্রলীগের গ্রুপিং লবিংয়ের পিছনে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের আশির্বাদপুষ্ট রয়েছে। মুলত একারণে বিপ্লব বড়ুয়া এই আস্ফালন।

তবে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাংপুই বম বলেন, ছাত্রলীগের কাউন্সিলের ব্যাপারে আমার হাতও নেই, প্যানেলও নেই, এটা জেলা ছাত্রলীগ বুঝবে।

একই দাবি করে রুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান বলেন,প‍্যানেল বা কোন দুই গ্রুপ নাই। আমরা সবাই মাননীয় মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র কর্মী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র কর্মী। এখানে শৈবং এবং উহ্লাচিং-সাংপুই আমাদের গ্রুপ বলতে কিছু নাই। জেলা নেতারা যেটা সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।