লামায় জমি দখলের পায়তারা : আদালতে মামলা

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মোহাম্মদ পারভেজ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিক্রি করা জমি ফের দখলের পায়তারাসহ হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হায়দারনাসি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ক্রেতা এনামুল হক (৫৮) বাদী হয়ে উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ও হামলার ঘটনায় ক্রেতার ছেলে শাহজাহান বাদী হয়ে বিক্রেতার ছেলে মোহাম্মদ পারভেজের (৩০) নামে লামা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, ১৯৮৭সালে পারভেজের বাবা আবুল কাশেম তার নিজ নামিয় তপসীলভুক্ত দুই একর তৃতীয় শ্রেণীর জায়গা কাঁচা দলিল মুলে একই এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের নিকট ১১ হাজার টাকায় বিক্রয় করেন। সেই থেকে এনামুল হক ওই জায়গায় বিভিন্ন প্রকারে ফলদ ও বনজ বাগান সৃজন করে বসত বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস কর আসছেন। ১৯৯১ সালে বিক্রেতা আবুল কাশেম সাগরে মাছ ধরতে গেলে আর ফিরে আসেনি। এ সুবাদে পিতার বিক্রয়কৃত জায়গাও ওপর দৃষ্টি পড়ে মোহাম্মদ পারভেজের। পরে এ জমি নিয়ে উভয়ে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়লে গ্রাম্য সালিশ বসে। এতে ক্রেতা এনামুল হক পুনরায় ওই জায়গা ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকায় বিক্রেতার ছেলে পারভেজের কাছ থেকে পূণরায় ক্রয় করে নেন (দলিল নং- ১৮৩২/২০০৮)।
এদিকে দিন দিন জমির দাম বৃদ্ধির কারণে আবুল কাশেমের ছেলে পারভেজ জমি রেজিস্ট্রি দিতে তাল বাহানা শুরু করে। গত ২২ শে মার্চ তারিখে দুপুরে জমি রেজিস্ট্রি দিতে বললে ক্ষিপ্ত হয় বিক্রেতার ছেলে মোহাম্মদ পারভেজ। এক পর্যায়ে গালিগালাজ করে জমি বিক্রয় অস্বীকার করে এবং ক্রেতা এনামুল হককে বসতভিটা থেকে জোর পুবর্ক উচ্ছেদের পায়তারা ও হত্যার হুমকী প্রদান করেন মোহাম্মদ পারভেজ। পরে ক্রেতা এনামুর হক (৫৮) প্রতিকার চেয়ে লামা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোহাম্মদ পারভেজকে (৩০) আসামী করে মামলা করেন।
জমি ক্রেতা এনামুল হকের ছেলে মো. শাহজাহান বলেন,আদালতের মামলার পর আমার বাবার নামে ক্রয়কৃত জমির ওপর কোন কাজ না করার জন্য উভয় পক্ষকে নিষেধ করে পুলিশ। কিন্তু বিক্রেতার ছেলে পারভেজ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ করতে গেলে আমরা বাধা দিই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা করে মোহাম্মদ পারভেজ ও তার লোকজন। এ ঘটনায় রবিবার বিকালে লামা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ পারভেজের মুঠোফোনে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।