লামায় শারদীয় উৎসব ঘিরে রং তুলিতে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তারপরেই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা। আর তাই মন্ডপে মন্ডপে চলছে দুর্গাপূজার শেষ প্রস্তুতি। এ বছর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের ৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপন হতে চলছে। এসব পূজা মন্ডপে কারিগরদের নিপূণ হাতের ছোঁয়ায় সজ্জিত হচ্ছে দেবীদুর্গা সহ অন্যান্য দেবী-দেবতা।

আগামী ১১ অক্টোবর মহা ষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর দশমী তিথিতে মাতামুহুরী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব। এবারের পুজার কেন্দ্রীয় হরি মন্দির মন্ডপে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে‘ প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত আরতি প্রতিযোগিতা’। পূজায় দেবী দুর্গাকে বরণ করতে ভক্তরা উদগ্রীব। তাদের আয়োজনও কম নয়। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের আনন্দ আরো বেশি। নতুন জামা-কাপড় কিনতে কাপড়ের দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে হিন্দু ধর্মালম্বী নারী-পুরুষেরা। এদিকে মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ।

এদিকে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপনের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং এমপিকে প্রধান পৃষ্টপোষক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মঞ্জুরুল হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা করে পূজা উদ্যাপন কমিটিও করা হয়েছে। মহা ষষ্ঠী ও প্রতিমা প্রদর্শনীর শুভ উদ্ভোধন করবেন, পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম। এছাড়া দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রুপ দিতে প্রতিটি মন্ডপে গঠন করা হয়েছে উদ্যাপন কমিটি। এখন মন্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জার কাজ। পূজার আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে পুজারি থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরাও।

পৌরসভা ও উপজেলার কয়েকটি পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হয়েছে দেবীদুর্গা সহ অন্যান্য দেবী-দেবতা। সেই দেবী দেবসতার মূর্তিতে রং তুলির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কারণ ১১ অক্টোবরের আগে মন্ডপ কমিটিকে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ আঁচড়ে তৈরি হচ্ছে এক একটি প্রতিমা। অতি ভালোবাসায় তৈরি করা হয়েছে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ, অসুর ও শিবের মূর্তি। এ সময় প্রতিমা তৈরির শিল্পী বাবুল ভট্টাচার্য্য জানায়, প্রতিমা গড়া শেষ। এখন শুধু প্রতিমাকে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা আর সাজ সজ্জার কাজ চলছে।

লামা কেন্দ্রীয় দুর্গা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিজয় আইচ ও অর্থ সম্পাদক গোপন চৌধুরী এক সূরে জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পুজা উদযাপন করে থাকি। আশা করি এবারও সকলে মিলেমিশে এ উৎসব উদ্যাপন করতে পারবো। এবারে আমাদের মন্ডপে প্রায় ৬-৭ লাখ টাকা খরচ হবে।

তারা বলেন, প্রতিবছরের ন্যয় এবছরও পুজার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছি। একই কথা জানালেন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজার, ইয়াংছা, পাগলির আগা, কমিউনিটি সেন্টার, আজিজনগর ইউনিয়নের তেলুনিয়া, মেরাখোলা ও পৌরসভার চম্পাতলী মন্ডপ কমিটির সদস্যরা। মেরাখোলা মন্ডপ কমিিিটর সাধারণ সম্পাদক রুপন নাথ বলেন, আমাদের মন্ডপের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। এখন সামন্য কাজ বাকী আছে। ১১ অক্টোবরের আগেই সব সাজ সজ্জার কাজ শেষ হবে। প্রতি বছরের মত এবারও শান্তিপুর্ণভাবে পুজা উদযাপন করতে পারবো বলে আশা করছি। এবারে মেরাখোলা হরি মন্দির মন্ডপে ২-৩ লাখ টাকা খরচ হতে পারে।

এদিকে কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বাবুল দাশ জানায়- লামা পৌরসভা এলাকায় দুইটি, লামা সদর ইউনিয়নে একটি, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে চারটি, আজিজনগর ইউনিয়নে একটিসহ মোট ৮টি মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পূজা করতে হবে। প্রতিমা প্রস্তুত করণের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সরকারি নির্দেশনা যেভাবে থাকবে সেভাবে মন্ডপগুলোতে আয়োজন করা হবে। ইতিমধ্যে কিছু নির্দেশনা মন্ডপ কমিটিকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, পূজা উপলক্ষে আমরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মন্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও কাজ করবে। আমরা মন্দির কর্তৃপক্ষ গুলোর সাথে নিয়মিত আলোচনা করছি এবং সমন্বয় করছি। প্রতিটি মন্ডপে আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘন্টা ডিউটি করবে এবং আমাদের পুলিশ সদস্যরা টহল ডিউটিতে থাকবে। আশা করছি প্রতি বছরের মত এবারও সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে এই ধর্মীয় উৎসব শেষ হবে। পুজা উদ্যাপনের জন্য প্রতিটি মন্ডপে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ফাতেমা পারুল।

লামা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা জামাল বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে। দুর্গাপুজা উপলক্ষে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি মন্ডপে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।