লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার আছে, তবে কর্মস্থলে নেই

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বান্দরবানের লামায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমবিবিএস ডাক্তাররা হাসপাতালে না এসে বেতন ও সরকারী সুযোগ সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। যোগদানের সময় বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালে রোগী দেখা বা সেবা না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে লামা হাসপাতালে ৬ জন এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. উইলিয়াম লুসাই, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুর রহমান মজুমদার, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মাকসুদা বেগম, ডেন্টাল সার্জন শ্রাবনী নাথ, সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. নজরুল ইসলাম ও ডা. মো. আবুল বশর সুফিয়ান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. উইলিয়াম লুসাই, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুর রহমান মজুমদার কর্মস্থলে উপস্থিত থাকলেও । সপ্তাহে ২দিন আসেন সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. নজরুল ইসলাম। কিন্তু বাকি ৩জন ডাক্তার গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মাকসুদা বেগম ৩১ জানুয়ারী ২০১৬ইং, ডেন্টাল সার্জন শ্রাবনী নাথ ২৪ আগষ্ট ২০১৬ইং ও ডা. মো. আবুল বশর সুফিয়ান ০১ জুন ২০১৬ইং যোগদান করলেও কখনও তাদের হাসপাতালে দেখা যায়নি, রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন এমন উদাহরণ নেই, অভিযোগ করেছে স্থানীয়দের।

রুপসিপাড়া ইউপির হ্লাচাই পাড়ার বাসিন্দা মংশৈপ্রæ মার্মা বলেন, আমার শিশু সন্তান জংহাই থোয়াই (০১) ঠান্ডাজনিত শ্বাস কষ্টে তিন দিন যাবত হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজনীয় সকল ঔষুধ বাহির হতে ক্রয় করতে হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় সরজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বর্হি বিভাগে চিকিৎসা নিতে প্রচুর রোগী লাইনে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু সেবা দেয়ার মত ডাক্তার নাই,সকাল ১০.৩০ মিনিটেও হাসপাতালে কোন ডাক্তারের দেখা মেলেনি। এমন দৃশ্য প্রতিদিনকার, ফলে স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারের চকরিয়ার বিভিন্ন ক্লিনিকের আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

বর্হি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা মরিয়ম বেগম পাহাড়বার্তাকে বলেন, এক ঘন্টা পর ডাক্তারের দেখা পেলেও হাসপাতাল থেকে প্যারাপাইরল ও গ্যাস্টিক এর ঔষুধ ছাড়া কোন ওষধ পাইনি।

আরো জানা গেছে, গত ২৬ অক্টোবর থেকে ডা. মাকসুদা বেগম এর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নাই। মাঝে মধ্যে এসে দীর্ঘদিনের স্বাক্ষর একসাথে হাজিরা খাতায় করে যান। ডা. মো. আবুল বশর সুফিয়ান এর যোগদানের পর থেকে প্রশিক্ষণের নামে অনুপস্থিত রয়েছেন। মাসের অধিক সময় অনুপস্থিত থেকে গত ২৯ অক্টোবর হাসপাতালে ফিরেছেন ডা. শ্রাবনী নাথ। মাস শেষে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক তাদের বেতন তুলে বিকাশের মাধ্যমে তাদের কাছে পাঠায় বলে জানা যায়।
এছাড়া মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা না দেয়া, সরকারী ঔষুধ মজুদ বিবরনী বোর্ডে না লিখে, রোগীদের না দিয়ে ঔষুধ কোম্পানীর সাথে যোগসাজসে তাদের বিক্রি বৃদ্ধির চেষ্টা, নিন্মামানের খাবার পরিবেশন, ২টি এ্যাম্বুলেন্স নষ্ট করে রাখা ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী দিয়ে রোগীদের স্যালাইন, ইনজেকশন পুশ করাসহ সমস্যার যেন অন্ত নেই।
গত ২১ অক্টোবর গজালিয়া ইউ.পির সাপমারা ঝিরি এলাকার মফিজুর রহমান (০৬) অগ্নিকান্ড জনিত দূর্ঘটনায় বার্ন নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর এখনো পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে কোন প্রকার ঔষুধ দেয়া হয়নি। চিকিৎক আবাসিক মেডিকেল অফিসার আন্তরিক ভাবে চিকিৎসা করেনা বলে অভিযোগ করেন শিশুটির মা জয়নব বেগম।

বান্দরবান সিভিল সার্জন উদয় শংকর চাকমা পাহাড়বার্তাকে বলেন, আমি গত মাসে পরিদর্শনে গিয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ডা. শ্রাবনী নাথ এর হাজিরা খাতায় লাল কালি দিয়ে অনুপস্থিত দিয়েছি এবং বেতন কাটতে বলেছি। অন্যান্য ডাক্তারদের অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমাকে জানায়নি, আমাকে জানালে আমি ব্যবস্থা নিব।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।