সোহরাওয়ার্দী না হলে নয়া পল্টনে সমাবেশের অনুমতি চায় বিএনপি

সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যান না হলে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চায় বিএনপি।পূর্বঘোষিত শনিবারের এই কর্মসূচির আগের দিন বিকালে দলীয় এক সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা বলেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের দিনকে ‘গণতন্ত্র হত‌্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে বিএনপি। এ উপলক্ষে গত ২৮ ডিসেম্বর দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। ৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়া সব জেলায় কালো পতাকা মিছিল করেছে তারা।
শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে সমাবেশের ঘোষণা থাকলেও এখনও তার অনুমতি দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ।
এ প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বিকালে এই কর্মসূচি ঘিরে মহানগর বিএনপির এক প্রস্তুতি সভায় ফখরুল বলেন, “আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চেয়েছি। আমরা এখনও বলছি, যদি সন্ধ্যার মধ্যেও অনুমতি দেন, ইনশাল্লাহ, আমরা কালকে (শনিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ সফল করতে সক্ষম হবে। আশা করি, আপনাদের (সরকার) শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেবেন।
“আবার এটাও বলছি, যদি সেখানে দিতে অসুবিধা হয়, আমাদের পার্টি অফিসের (নয়া পল্টন) সামনে দেন, সেটাও সফল করতে পারব। আমরা দুটি প্রস্তাবই রাখছি।”
সরকারের প্রতি সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “এই অনুমতি দিয়ে অন্তত আপনারা দেখান যে, আপনারা ‘আন্তরিক’ রয়েছেন। আপনারা কোন দিক দিয়ে, কোন খান দিয়ে ‘আন্তরিক’ আমরা এখন পর্যন্ত টের পাইনি।”
গণতন্ত্র বিকাশের স্বার্থে ‘কথা বলার অধিকার’ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সরকারের উদ্দেশ‌্যে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে মুক্ত বাতাসে চলতে দিতে হবে। জানালা-দরজা খুলে দিতে হবে। হাজারো মত আসবে, পথ আসবে, সেখান থেকেই তো গণতন্ত্র বিকশিত হবে।
“একদিকে বলবেন, গণতন্ত্রের কথা। অন্যদিকে গণতন্ত্রের শেকড় কাটবেন, জনগণের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেবেন, তাদের ভোটের অধিকারটুকু কেড়ে নিয়েছেন। কথা বলার অধিকার তো নেই।”
সরকার ‘ভয় পায়’ বলে বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দিতে চায় না দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরর্ বলেন, “জনগণের উত্তাল যে ‘তরঙ্গরোষ’ সেটা তারা দেখেছে বলে ভয় পায়। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে, আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে।”
সভায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, “৫ জানুয়ারি এদেশের মানুষের জন্য একটি অভিশপ্ত দিন। এদিন এই সরকার বিনা ভোটে ‘সিন্দাবাদের ঘোড়ার’ মতো জাতির ঘাড়ে চেপে বসল, সে আর ঘাড় থেকে নামে না এখন।
“এখন নিশ্চিত নই, সরকার আমাদের অনুমতি দেবে কি না। তবে আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন, যেই মুহূর্তে ঘোষণা আসবে, সেই মুহূর্তে আমরা এই সরকারকে দেখিয়ে দেব- এক ঘণ্টার নোটিশেও আমরা জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে পারি।”
ইসলামী ব‌্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের জন‌্যও সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “একদিকে দুর্নীতি, দুর্নীতিতে কালো টাকার পাহাড় তৈরি করেছেন। ব্যাংক-ট্যাংক দখল করে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে আপনারা শেয়ার মার্কেট ধ্বংস করেছেন। ব্যাংকগুলোতে লুট করে সব টাকা নিয়ে চলে গিয়ে বিরাট পাহাড় গড়ে তুলছেন।
“আজকেও খবর আছে, ইসলামী ব্যাংক তারা নিয়ে নিয়েছে। এখন কোন দিন দেখব যে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের হাতে, দলীয় লোকের আওতায়।”
বৃহস্পতিবার ইসলামী ব‌্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় শীর্ষ পর্যায়ের তিন পদে পরিবর্তন হয়। সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে ব‌্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম‌্যান করা হয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে ভাইস চেয়ারম‌্যান ও ব‌্যবস্থাপনা পরিচালক পদেও।
বেসরকারি এই ব‌্যাংকটিতে জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতা থাকায় ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবির আন্দোলনকারীরা। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারিও ছিল ব‌্যাংকটির উপর। ২০১০ সালে এই ব্যাংকে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।