আপনাদের মোকাবেলা করতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই, পার্বত্যবাসীই যথেষ্ট : রিজিয়ন কমান্ডার নাজমুল হক
ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমাকে উদ্দেশ্য করে রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, এসপিপি, এনডিইউএসসি, পিএসসি বলেছেন, ‘আপনাদের মোকাবেলা করতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই, পার্বত্যবাসীই যথেষ্ট।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাঙামাটিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, নারীদের সেলাই মেশিন ও প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও সার্জারি এবং যুবকদের মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য নিয়ে ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমার প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম করছি। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন—এরা এসব কেন করছে, কী জন্য করছে। আমরা বলতে চাই, মানুষের জন্যই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী দেশকে ভালোবাসে, এ অঞ্চলের মানুষকে ভালোবাসে। সেই ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই পার্বত্যবাসীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, দুর্যোগের সময় অনেক মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্যসংকটে পড়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল মূল লক্ষ্য। সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময় দুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এ সময় পার্বত্য এলাকায় চাঁদা আদায়ের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো প্রতি মাসে রাঙামাটি থেকে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কই, সেই অর্থের একটি অংশও তো দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য ব্যয় করতে দেখা গেল না। পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্যই বা কতটুকু ব্যয় করেছেন?
রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। মানুষ এখন নিজেরাই বুঝতে পারছেন কারা তাদের পাশে আছে এবং কারা তাদের জন্য কী করছে। বাস্তব কাজের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকে বিভ্রান্ত না করার জন্য একটি বিনামূল্যে পরামর্শ দিতে চাই। জনগণ এখন অনেক কিছুই বোঝেন। তাদের সামনে সত্য-মিথ্যা তুলে ধরার প্রয়োজন নেই—তারা নিজেরাই বিচার করার সক্ষমতা রাখেন।’
রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ‘আপনাদের মোকাবেলা করার জন্য সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই। পার্বত্যবাসীই যথেষ্ট। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কারা তাদের পাশে আছে এবং কারা তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।’
পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভ্রান্তি বা সংঘাত নয়—পার্বত্যবাসীর কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।


