টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে টইটুম্বুর হয়ে উঠেছে রাঙামাটির কাপ্তাই লেক। লেকজুড়ে এখন শুধু পানি আর পানি। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) পাঁচটি ইউনিটই একযোগে চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুষ্ক মৌসুমে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি বা দুটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও লেকে পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পাঁচটি ইউনিট একযোগে চালু করা হয়। ওই দিন পাঁচটি ইউনিট থেকে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, গত সাত দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পানির ওপর নির্ভরশীল এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান,শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পাঁচটি ইউনিট থেকে মোট ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪২ মেগাওয়াট করে মোট ৮৪ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৫ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট করে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।
এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ছিল ৯০.৩১ ফুট (মিন সি লেভেল)। রুল কার্ভ অনুযায়ী এ সময়ে লেকে পানির উচ্চতা থাকার কথা ৮৫.৪৪ ফুট (মিন সি লেভেল), অর্থাৎ বর্তমানে লেকে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি পানি রয়েছে।
উল্লেখ্য,কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানিধারণ ক্ষমতা ১০৮ ফুট (মিন সি লেভেল)।


