কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে গেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ‘ঝুলন্ত সেতু’ পানিতে তলিয়ে গেছে।

শনিবার দুপুর থেকে সেতুটির কাঠের পাটাতন পানিতে ডুবতে শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটিতে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাঙামাটি শহরের ডিয়ার পার্ক এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত এই ঝুলন্ত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন সেতুটিতে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটে। তবে বর্ষা মৌসুমে হ্রদের পানি বাড়লেই সেতুটির নিচের অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শনিবার দুপুর থেকে ঝুলন্ত সেতুটি ডুবতে শুরু করেছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সেতুতে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

NewsDetails_03

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্যমতে, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫৪ এমএলএম। হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

এদিকে ঝুলন্ত সেতু পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক পর্যটক সেতুটি দেখতে গিয়ে প্রবেশপথ থেকে ফিরে যাচ্ছেন। পর্যটকদের কাছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড় ও ঝুলন্ত সেতুর সমন্বিত দৃশ্য অন্যতম আকর্ষণ হওয়ায় সেতুটি বন্ধ থাকায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে গত এক দশকে প্রায় প্রতিবছরই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বর্ষাকালে পর্যটকদের জন্য সেতুটি ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, পর্যটন করপোরেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার উচ্চতা বৃদ্ধি করে আধুনিকায়ন করা হলে বর্ষা মৌসুমেও এটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সেতুটির স্থায়িত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি রাঙামাটির পর্যটন খাতও আরও গতিশীল হবে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, ঝুলন্ত সেতুটির বারবার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে। এতে বর্ষা মৌসুমেও পর্যটকদের আকর্ষণ ধরে রাখা এবং স্থানীয় পর্যটননির্ভর অর্থনীতিকে সচল রাখা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন