খাগড়াছড়িতে বর্ণিল আয়োজনে বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষের সূচনা

পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু (বৈসাবি) এবং বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য উৎসব। বহুমাত্রিক কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের জনপদে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার।

আজ ​মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৯টায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক ও শাপলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় টাউন হল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করে।

​খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,​মো. নোমান হোসেন, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, পার্বত্য জেলা পরিষদ।
​সাজিয়া তাহের, উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগ (জেলা প্রশাসন)। ​শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। ​ডা. মোহাম্মদ সাবের, সিভিল সার্জন। মো. ফরিদ মিঞা, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা।​মোহাম্মদ আল মাহফুজ, নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ।

উৎসবের আমেজ বজায় রাখতে তিন দিনের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে:

প্রথম দিন (মঙ্গলবার) বিকাল ৫:০০ পাঁচন রান্না প্রতিযোগিতা ও কোমর তাঁত শিল্প প্রদর্শনী। সন্ধ্যা আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (ইনস্টিটিউট মিলনায়তন)।

NewsDetails_03

দ্বিতীয় দিন (বুধবার) সকাল ১০:০০ শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

বিকাল ২:০০ রচনা প্রতিযোগিতা। বিকাল ৫:৩০ আলোচনা সভা ও বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

তৃতীয় দিন (বৃহস্পতিবার)

বিকাল ৫:০০ সমাপনী

মূলত আগামী ১২ এপ্রিল থেকে পাহাড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের মূল পর্ব শুরু হবে। সূচি অনুযায়ী, ​১২ এপ্রিল: চাকমা সম্প্রদায়ের ‘ফুল বিজু’। ​১৩ এপ্রিল, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ‘হারি বৈসু’ এবং মারমা সম্প্রদায়ের ‘সাংগ্রাই’ উৎসব। ​সম্প্রীতির সেতুবন্ধন

​আয়োজকরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের এই উৎসবগুলো কেবল নিছক আনন্দ আয়োজন নয়; বরং এটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে সৌহার্দ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ আরও বেগবান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন