পর্যটনের অপার সম্ভাবনার কাপ্তাই

প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়-হ্রদ, বনভূমি এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অনন্য সমন্বয় রাঙামাটির কাপ্তাইকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, কাপ্তাই হ্রদ, লুসাই কণ্যা কর্ণফুলি, কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, কর্ণফুলি পেপার মিল লিমিটেড, ওয়াগ্গা টি লিমিটেড, ঝর্ণা এবং নান্দনিক বেশ কিছু সরকারি বেসরকারি পর্যটন স্পটকে ঘিরে প্রতিবছর হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে কাপ্তাইয়ে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে কাপ্তাই দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ হিসেবে পরিচিত কাপ্তাই হ্রদ পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। সবুজ পাহাড়ঘেরা বিশাল জলরাশি, দ্বীপসদৃশ টিলা, নৌভ্রমণ এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে বোটিং, স্পিডবোট ভ্রমণ, জলক্রীড়া এবং প্রকৃতি উপভোগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার। পাহাড়ি বন, বন্যপ্রাণী, পাখির সমাহার এবং ট্রেইলভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ থাকায় এটি ইকো-ট্যুরিজমের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশ নৌভ্রমণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পাহাড়ি সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে এখানে আসেন। পর্যটকদের অনেকেই আবারও কাপ্তাই ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনার শক্তিশালী ইঙ্গিত বহন করে।

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, কাপ্তাইয়ের পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি আইন কানুন শীতিল করে বিনিয়োগ এর পন্থা সহজ করতে হবে। স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন মন্ত্রনালয় এই অঞ্চলের অসচ্ছল জনগণকে ঋণ দিয়ে পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে পারে।

NewsDetails_03

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ বলেন, পর্যটনের অপার সম্ভাবনায় উপজেলা কাপ্তাই উপজেলা। এখানে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। পরিবেশের ক্ষতি না করে এখানে আরোও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেতে পারে।
সেই ক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কাপ্তাইয়ের শিলছড়িতে অবস্থিত বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত জনপ্রিয় পর্যটন স্পট নিসর্গ রিভার ভ্যালি এন্ড পড হাউস এর পরিচালক মো: আফছার এবং শিলছড়ি বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রুবায়েত আক্তার বলেন, কাপ্তাইয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ, পাহাড়ি সংস্কৃতি, হ্রদকেন্দ্রিক বিনোদন এবং ইকো-ট্যুরিজমকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে কাপ্তাই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

কাপ্তাই লেকের মাঝে অবস্থিত রাইংখ্যং আইল্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবেশের ক্ষতি না করে ইকো-বান্ধব রিসোর্ট, কটেজ তৈরি করে এখানে পর্যকটদের আকর্ষণ করতে হবে, তবেই এই অঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

কাপ্তাই ফ্লোটিং প্যারাডাইস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রেসিডেন্ট স্কাউট প্রাপ্ত পর্যটন উদ্যোক্তা হাজ্বি মুঃ মঈনুদ্দিন জুয়েল বলেন, পর্যটন সম্ভাবনায় প্রিয় রুপসী কাপ্তাই: নৈসর্গিক সৌন্দর্য রুপের রানী রাঙামাটি জেলার রুপসী কাপ্তাইয়ের নৈসর্গিকতা মহান আল্লাহর এক অপরুপ সৃষ্টি! যা দেখতে হলে কাপ্তাই আসতে হবে, কাপ্তাই লেক, কর্নফুলী নদী ও নদীর দুপাশে রাম, সীতার পাহাড়, ঐতিহ্য বাহী রেষ্টুরেন্ট ফ্লোটিং প্যারাডাইসের পাদদেশে দাড়িয়ে যে দৃশ্য দেখবেন তা সুইজারল্যান্ড ভিউ নামে পরিচিত, আরো সুন্দর লাগে ওয়াগ্গা ছড়া চা বাগান। এইসবের সৌন্দর্যগুলো কাজে লাগিয়রে পর্যটককে আরো আরো আকর্ষন করার করার জন্য পর্যটক বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকারকে আরো আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানাই।

তিনি আরোও বলেন, কর্নফুলী নদীর দুপাশে সাজানো, রাম সীতার পাহাড়ে ক্যাবল কার স্থাপন, কর্নফুলী ভাঙন প্রতিরোধ করে নদীর পাড়ে কৃঞ্চচুড়া,জারুল,কদম ইত্যাতি ফুলের গাছ লাগানো,পর্যটন হয়রানী মুক্ত জনবান্ধব পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশের সেবা ব্যবস্হা করন সহ কাপ্তাই লেকের দ্বীপের মধ্যেই নিরাপদ রিসোর্ট তৈরি,কাপ্তাই জেডিঘাট কে আরো সুন্দর করে হোটেল/মোটেল জোন করা, ওয়াগ্গা হতে শিলছড়ি, সীতার ঘাটের যে বেসরকারি পর্যটন কেন্দ্র রযেছে তার দু-পাশে লাইটের ব্যবস্হা করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন