পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে বান্দরবানে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, বান্দরবান জেলা শাখার আয়োজনে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো: মজিবর রহমান।

এসময় বান্দরবান জেলা নাগরিক পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বান্দরবান জেলা নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো: নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নাগরিক পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মো: শাহজালাল, বান্দরবান জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি মো:আসিফ ইকবাল, সেক্রেটারি মো:তানভির হোসেন ইমন, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এন এ জাকিরসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বিভিন্ন সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য প্রদান করতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো: মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের দেশের একটি ভৌগোলিক ও সামাজিক ভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল। যেখানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বহুভাষিক ও বৈচিত্যময় মানুষ যুগ যুগ ধরে বাস করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার জননিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের জীবিকা এবং মানবাধিকার চরম হুমকির মুখে পড়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একপাক্ষিক ও আংশিক তথ্য প্রচার করে প্রকৃত নিরাপত্তাহীনতার চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে।

NewsDetails_03

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ে প্রায় ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৭টি অপহরণ এবং ১৬টি হত্যাকান্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অপহরণের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ শ্রমিক, চালক, কৃষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রামবাসী পর্যন্ত। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস), ইউপিডিএফ (প্রসীত), কেএনএফ নামক পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র ৭০জনেরও বেশি অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু ও তরুণকে জোরপূর্বক সশস্ত্র সংঘাত বা দলীয় কাজে যুক্ত করেছে। অন্যদিকে ১৪ জন নারী অপহরণ, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা নারী ও শিশুর সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো: মজিবর রহমান আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রধান আর্থিক উৎসে পরিণত হয়েছে অবৈধ চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণ আদায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত এক বছরে প্রায় ১ হাজার ৫ শত ২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে পাহাড়ে।

জেএসএস ও ইউপিডএফ এর মতন পাহাড়ের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন গুলো সরকার, সেনাবাহিনী ও বাঙালি জনগোষ্ঠী বিরোধী অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে জুম্মল্যান্ড নামে একটি পৃথক প্রদেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

এসময় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, আস্থা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকের জীবন, মর্যাদা, নিরাপত্তা, সমঅধিকার, উন্নয়নের সুযোগ এবং আইনের সমান সুরক্ষা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।

আরও পড়ুন