পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদে নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদ গঠন ও চেয়ারম্যান পদে বাঙ্গালীদের অংশগ্রহন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করা, প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুন:স্থাপন করা, নিরাপত্তার স্বার্থে ১হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, সেনা ক্যাম্পগুলোতে পুলিশের পরিবর্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ ও শান্তি চুক্তি বাতিলের দাবীতে বান্দরবানে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির আয়োজনে শহরের একটি হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো: মজিবর রহমান।
এসময় তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচন করে দায়িত্ব পালনের কথা, কিন্তু দীর্ঘ ২৮বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং ৩৭বছর ধরে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসন ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে অনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বারা, ফলে জেলা পরিষদ গুলো হয়ে উঠেছে দুর্নীতির আখড়া। নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় পরিষদে জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়েছে, আর এর ফলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বেড়েছে এবং সুষম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

এসময় তিনি আরো বলেন, পার্বত্য এলাকায় একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যা, গুম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কারনে সাধারণ জনগন আতংকে বসবাস করছে।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এই অঞ্চলে কাংঙ্খিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসেনি। উল্টো চুক্তির শর্তাবলী বাংলাদেশের মূল সংবিধানের সাথে বহুলাংশে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক হওয়ায় পাহাড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল ও নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে।
এসময় তিনি দ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি -১৯০০ ও শান্তি চুক্তি বাতিলের দাবীও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সেক্রেটারী মো.নাসির উদ্দীনসহ সাংবাদিক এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।



