বান্দরবানের বালাঘাটায় মো. করিম নামে এক যুবককে মারধর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে বান্দরবান পৌরসভার বালাঘাটা আমবাগান এলাকায় এঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার মো. রেজাউল করিম চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা।
অভিযুক্ত কাজল বড়ুয়া, বান্দরবান পৌরসভার বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পর্যটক করিম আমবাগান এলাকার একটি দোকানে বসা ছিলেন।সে সময় পার্শ্ববর্তী সুমি মারমা নামে এক মহিলাকে গালিগালাজ ও উগ্র আচরণ আচরণ করতে থাকেন অভিযুক্তরা।এসময় করিম বাধা দিলে সেখান থেকে করিমকে টেনে নিয়ে কাজল বড়ুয়াসহ আরও কয়েকজন মিলে মাটিতে ফেলে কিল-লাথি মারতে থাকেন।কাজল বড়ুয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমি মারমা বলেন, তিনি একজন স্বামী হারা মহিলা।প্রায় সময় কাজল বড়ুয়া ও শহীদ তার বাসায় গিয়ে মদ এনে দিতে বাধ্য করান। আজও বৃষ্টির মধ্যে বাসায় ঢুকে কাদাযুক্ত জুতা থেকে কাদা ফেলতে থাকেন এবং মদ এনে দিতে বলেন।তার তিন বছরের কন্যা শিশুটি অসুস্থ থাকায় মদ এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে শহীদ অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ ও গায়ে হাত তোলেন।এরই মধ্যে কাজল বড়ুয়াও তার সাথে যুক্ত হয়ে তার (সুমি মারমা) মত কয়েকটি মেয়েকে মেরে ফেললে কিচ্ছু যায় আসবে না বলে হুমকি প্রদান করেন।এসময় পর্যটক রেজাউ করিম বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকে কাদা মাটিতে ফেলে মারধর করেন।
নির্যাতনের শিকার মো.রেজাউল করিম বলেন, বান্দরবান ঘুরতে এসে সখ করে ফিস ফ্রাই খেতে আমবাগান এলাকার সুমি মারমার বসত ঘরের পাশে একটি দোকানে যান।ওই সময় অভিযুক্ত কাজল বড়ুয়া তার পাশে এসে তাকে উদ্দেশ্য করে গালি গালাজ করতে থাকে। গালি-গালাজের কারন জানতে চাইলে কাজল তার গেঞ্জির কলার ধরে টেনে নিয়ে মারধর করে।ওই সময় নিজেকে পর্যটক পরিচয় দিলে অপর দুই জনও কাজলের সাথে তাকে মারধর করতে থাকে।এবং এ সময় তার পকেট থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা তারা নিয়ে ফেলে।পরে এনিয়ে সন্ধ্যায় বান্দরবান সদর থানায় কাজলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কাজল বড়ুয়া বলেন, অতিরিক্ত মদ্য পানের ফলে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছেন।তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
বান্দরবান সদর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সৌরভ বলেন,অভিযোগের প্রক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এবং পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন,তদন্ত স্বাপেক্ষে বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।



