বান্দরবান কারাগারের ধারণক্ষমতা ১১৪ জন হলেও আছে ৪৭৪ জন বন্দি

চারগুন বেশি বন্দি

বান্দরবান কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চারগুন বেশি বন্দি থাকায় চরম চাপের মধ্যে রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। ধারণ ক্ষমতা ১১৪ জন হলেও বর্তমানে ৪৭৪ জন বন্দি রয়েছে, ফলে অতিরিক্ত বন্দির চাপে কারাবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বন্দিকে পৃথক রাখার ব্যবস্থা ব্যাহতের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ ও মামলায় আটক বন্দিদের অনেক ক্ষেত্রেই একই সঙ্গে রাখতে হচ্ছে।

গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কারা সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে বন্দির ধারনক্ষতা পুরুষ ১০৪ জন ও মহিলা ১০ জনসহ মোট ১১৪জন থাকলেও বর্তমানে মোট বন্দি আছে ৪৭৪জন। তাদের মধ্যে ১১জন মহিলা ও ৪৬৩জন পুরুষ বন্দি আছে। বিদেশী বন্দি ভারতের ৬ জন পুরুষ নাগরিক থাকলেও তাদের মধ্যে ৪ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বন্দি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চালু না থাকায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছেনা। এছাড়া মিয়ানমারের পুলিশ ও আর্মির ৪৩জন পুরুষ সদস্য আছে।

আরো জানা গেছে, পাহাড়ের শসস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ও কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) এর ৪৯ জন পুরুষ সদস্যসহ ১জন নারী সদস্য আছে। এর মধ্যে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছে পুরুষ ১৮ জন ও নারী একজন। মাদক মামলায় বন্দি আছে ৮৪ জন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের ৮ জন নেতা-কর্মী রয়েছে।

কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারাগারে বিভিন্ন শ্রেণি ও অপরাধের বন্দিদের পৃথক রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকায় বাস্তবে সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একই স্থানে বিভিন্ন মামলার ও অপরাধে আটক বন্দিদের রাখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামাল দিতে গিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এই বিষয়ে সদ্য কারামুক্ত বান্দরবান পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর অজিত দাশ বলেন, কারাগারে শৃংখলা ও সেবা ঠিক আছে, তবে বন্দি বেশি হওয়ার কারনে অন্য বন্দিদের অসুবিধা হচ্ছে।

কারাগার সূত্র জানিয়েছে, জেল কোড অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দিকে ৩৬ বর্গফুটের জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার কথা। অথচ বান্দরবান কারাগারে বন্দির সংখ্যা চারগুনের বেশি হওয়ায় এই সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না। একজনের জায়গায় চার জনের বেশি রাখতে হচ্ছে।

বান্দরবান জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চার গুণ বেশি বন্দি থাকায় অসুবিধা হচ্ছে। আবাসন সংকট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই কারাগার সম্প্রসারণ ও আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য উদ্ধতন কতৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, কারাগারে বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের মধ্যে মিয়ানমার ও ভারতের নাগরিক, হত্যা ও মাদক মামলার আসামি, কেএনএফ ও কেএনএ সদস্য ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আছে।

আরো জানা গেছে, বন্দির সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ার কারনে কারাগারে স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বিঘিœত হচ্ছে। বন্দিদের সীমিত সংখ্যক বাথরুম ভাগাভাগি করে ব্যবহার, পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকা ও অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ও তীব্র গরমে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। বন্দিদের কেউ কেউ চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, অতিরিক্ত ভিড় সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হাম, যক্ষা ও খোসপাঁচড়ার মতো সংক্রামক রোগ খুব সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালে ৭ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বান্দরবান জেলা কারাগারে জনবল নিয়োজিত আছে ৮০জন।

আরও পড়ুন