বান্দরবান-থানচি সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল সীমিত

নেপথ্যে চাঁদা !

বান্দরবান জেলা সদর থেকে থানচি সদর পর্যন্ত সড়কে হঠাৎ করে যাত্রীবাহী বাস চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। সড়কটিতে বান্দরবান ও থানচি স্টেশন থেকে প্রতিদিন উভয় পক্ষে ৫টি করে ১০টি যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। আকস্মিক বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বান্দরবান থেকে থানচির উদ্দেশ্যে কোনো বাস ছেড়ে না আসায় সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, রোগী ও পর্যটকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

থানচি উপজেলা সদরের যাত্রীবাহী বাসস্টেশনের লাইনম্যান মংসিংনু মারমা বলেন, আজ সকাল থেকে থানচি থেকে দুটি বাস যাত্রী নিয়ে বান্দরবানের দিকে গেছে। তবে বান্দরবান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বাস থানচির উদ্দেশ্যে আসেনি। ফলে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

থানচির সমাজপতি ও ঠিকাদার নুমংপ্রু মারমা বলেন, ‘সকাল ৮টার দিকে বান্দরবান থেকে বাসে করে থানচির উদ্দেশ্যে রওনা দিই। হাফেজঘোনা এলাকায় পৌঁছানোর পর বাসচালক জানান, বাসটি আর থানচি যাবে না। পরে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে কী কারণে বাস চলাচল সীমিত হয়েছে, তা কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

পরিবহন-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে বান্দরবান-রুমা-রোয়াংছড়ি-থানচি সড়কের চলমান বাস চালকের নিকট মুঠোফোনের প্রতিটি বাসের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চালকরা মালিক পক্ষকে বিষয়টি জানানো পর ও চালকদের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বান্দরবান থেকে থানচির উদ্দেশ্যে বাস চালাতে চালকেরা অনীহা প্রকাশ করেন বলে তাঁরা জানান।

NewsDetails_03

বান্দরবান-রুমা-রোয়াংছড়ি-থানচি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বলেন, ‘চালকেরা জানিয়েছেন, একটি গ্রুপ মুঠোফোনে প্রতিটি গাড়ির জন্য ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছে। বিষয়টি মালিক সমিতিকে জানানো হবে বলে চালকেরা জানিয়েছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে বান্দরবান-থানচি সড়কে বাস চালাতে চালকেরা সাময়িকভাবে অনীহা দেখাচ্ছেন।’

থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার বলেন, ‘বান্দরবান-থানচি সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল সীমিত হওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। মালিক সমিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করা হলে প্রশাসন, মালিক সমিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’

বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর শুকুর বলেন, ‘পাহাড়ে এ ধরনের সাময়িক সমস্যা হয়ে থাকে। আশা করছি, আগামীকাল শুক্রবার থেকে যাত্রীবাহী বাস নিয়মিত চলাচল করবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য সর্বসাধারণের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।’

বাস চলাচল সীমিত থাকায় দুর্গম থানচি উপজেলার সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, রোগী ও পর্যটকদের যাতায়াতে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান করে সড়কে স্বাভাবিক বাস চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন