রাঙামাটিতে জনজীবন স্থবির, কমেছে পর্যটক, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে রাঙামাটিসহ পার্বত্য এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। সারাদিন পেরিয়ে গেলেও সূর্যের দেখা মিলছে না।

সোমবার (০৫ জানুয়ারী) সকাল থেকে রাঙামাটিতে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যার পর তা আরও কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারে বেড়েছে গরম কাপড়ের চাহিদা। বিভিন্ন এলাকায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা জানান, এর আগে রাঙামাটিতে এমন তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী শীত খুব কমই দেখা গেছে। ডি‌সি বাং‌লো এলাকার বাসিন্দা মোঃ সোলায়মান বলেন,এবার শীতটা খুব বেশি। কুয়াশায় সারাদিন সূর্য দেখা যায় না,
কাজে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

NewsDetails_03

এদিকে শীতের তীব্রতার কারণে জেলায় পর্যটকের সংখ্যাও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কুয়াশা ও ঠান্ডার প্রভাবে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণকারীদের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শীত ও কুয়াশার প্রভাবে কৃষিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, বীজতলায় পলিথিন বা ছাউনি ব্যবহার, সকালে কুয়াশা কাটার পর হালকা সেচ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব।

শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। তিনি বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দু’দিন রাঙামাটিতে দিনে সর্বোচ্চ ১৮ ডিগ্রি এবং রাতে সর্বনিম্ন ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার ও সোমবার সূর্যের দেখা না মেলায় শীত ও কুয়াশার প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন