সাঙ্গু নদীর বাধা পেরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে রুমার লুকছড়ির শিশুরা

ঘর থেকে দেখা যায় স্কুল। অথচ বর্ষায় সাঙ্গু নদী পেরোতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছে জেলার রুমা সদর ইউনিয়নের লুকছড়ি পাড়ার শিশু শিক্ষার্থীরা। তাদের একা পাঠানো অতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা শিশুদের আনা-নেওয়ার জন্য যাচ্ছেন স্কুলে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে রুমা বাস স্টেশন সংলগ্ন বেথেল পাড়া ঘাটের এক চা দোকানে এমনই কথা বলেন, শান্তি রানী ত্রিপুরা (২৭) ও তেরেজা ত্রিপুরা (২৮)।

তারা জানান, নদীর এপারে আমাদের ঘর আর ওপারে স্কুল । প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন শিশুকে নিয়ে অভিভাবকরা বেথেল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্দেশে ঘাটে আসেন। সবাই লুকছড়ি পাড়ার বাসিন্দা। ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের এই শিশুরা সবাই ওই স্কুলের শিক্ষার্থী।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, লুকছড়ি পাড়ায় মোট ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পাড়ার সব অভিভাবকরা মিলে পালা (পর্যায়ক্রমে) করে প্রতিদিন ২ জন অভিভাবক শিশুদের সাথে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান এবং নিয়ে আসে।

NewsDetails_03

শিশু শিক্ষার্থীর অভিবাবক শান্তি রানী ত্রিপুরা বলেন, “আমার বড় মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। পালা না থাকলেও প্রতিদিন মেয়েকে নিয়ে যাই। মা-মেয়ে নদী পার হতে দৈনিক ৮০ টাকা লাগে। পানি বেশি থাকলে আসা-যাওয়া ২০০ টাকা। মাসে ২০ দিন ধরলে দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়।”

শিশুদের পড়ালেখার খরচ, তার সাথে সংসারের আয়ের উৎস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তেরেজা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “স্বামী বাগান ও পাহাড়ে জুম চাষ করেন। তা দিয়েই সংসার চলে। বর্ষায় নদীতে স্রোত খুব বেশি থাকে। অভিভাবক ছাড়া শিশুদের নদী পার করানো সবচেয়ে ঝুঁকির। সন্তানের কথা ভেবেই দুই মেয়ে সন্তানকে নিয়ে নিয়মিত স্কুলে আসি।”

এ অবস্থায় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বিদ্যালয়ে উপস্থিতি অনিয়মিত, ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বেথেলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল লিয়ান ত্লোয়াং বম বলেন, “লুকছড়ি পাড়া থেকে ১০-১১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি আছে। কিন্তু সাঙ্গু নদী পার করে আসা-যাওয়া করতে হাওয়ায় তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক অনিয়মিত। বর্ষায় নদী পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা সবসময় খুব সাবধানে নৌকায় নদী পারাপারের পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

আরও পড়ুন