ভোটের মৃদুমন্দ হাওয়া

untitled-8_238159২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির তিন মাস আগে যে কোনো দিন জাতীয় নির্বাচন। হাতে দু’বছরের বেশি সময় থাকলেও ইতিমধ্যেই ভোটের কলগুঞ্জন শুরু হয়েছে। প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মোটামুটি হোমওয়ার্ক করে ফেলেছে। গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি যে পর্বতপ্রমাণ ভুল করেছে, তা তারা এখন মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে। তাদের ‘আগাম নির্বাচনে’র দাবি যে হালে পানি পাবে না, তাও তারা জানে। তাই আগামী নির্বাচন, তা যে কোনো ব্যবস্থা, যে কারও অধীনে হোক না, বিএনপি অংশ নেবেই। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকাও রয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও থিঙ্কট্যাঙ্কও অনুরূপ তালিকা তৈরি করেছে

জাতীয় সম্মেলনের পর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করবে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে জরিপ কার্যক্রম চালিয়ে বর্তমান এমপিদের জনপ্রিয়তা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান যাচাই-বাছাইয়ের কাজ গুছিয়ে রেখেছেন। আগামী ২২-২৩ অক্টোবর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। এদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো সময় সংসদ ভেঙে দেওয়ার অধিকার রয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতির অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই। আদালতের সমস্যাও নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করে, কবে সংসদ নির্বাচন হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী জানিয়েছেন, জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ড. নূহ-উল-আলম লেনিন বলেছেন, বর্তমানে জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সম্মেলনের পর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হবে।

গত ২৫ জুলাই আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী। তিনি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারির তিন মাস আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দিকে ইঙ্গিত করে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচারের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য দলীয় এমপিদের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে না হলেও ভেতরে ভেতরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিরাও নড়েচড়ে বসেছেন। তারা ঈদুল আজহার ছুটিতে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়েছেন। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

তবে নেতারা বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় এমপিদের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলেও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মনোযোগ এখন জাতীয় সম্মেলনের দিকে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তারা এখন এক ধরনের উৎসবের আমেজে রয়েছেন। জাতীয় সম্মেলনের পরই তারা আগামী নির্বাচনের বিষয়ে মনোযোগী হবেন।

কয়েকজন শীর্ষ নেতার দৃষ্টিতে, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত বেশিরভাগ প্রার্থীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় অবস্থান বেশ সংহত হয়েছে। নতুন নেতাও তৈরি হয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক অবস্থান আরও মজবুত হবে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি।

তবে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদের চিত্র স্পষ্ট হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তাও ভর করেছে। বেশিরভাগ জেলায় সম্মেলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও অনেক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও অনুমোদন পায়নি। উপজেলা পর্যায়েও এমন সংকট রয়েছে। স্থানীয় এমপিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই প্রস্তাবিত কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। আর ওই প্রস্তাবিত কমিটিতে স্থান না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেক নেতাকর্মী। এ ছাড়াও নানা কারণে দলীয় অনেক এমপির সঙ্গে নেতাকর্মীদের দূরত্ব বেড়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সমকালকে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। দ্রুত এর সমাধান করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই নির্দেশের পর দলের এমপিরা আরও সজাগ হয়েছেন। জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়িয়েছেন। প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। তিনি বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে বেশি ব্যস্ত না থেকে আরও জনমুখী হওয়ার জন্যই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা জানিয়েছেন, বর্তমান এমপিদের মধ্যে অনেকেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের দৌড়ে ছিটকে পড়তে পারেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই গত নির্বাচনে প্রথম অংশ নিয়েছেন। তাদের অনেকেরই জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এমপিদের সজাগও করে দেওয়া হয়েছে।

তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে রয়েছেন পাঁচজন। চারজন করে রয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও নোয়াখালীতে। যশোর, ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোনায় রয়েছেন তিনজন করে। দু’জন করে রয়েছেন নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, বরিশাল, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কক্সবাজারে।

এ ছাড়াও দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, মেহেরপুর, মাগুরা, খুলনা, ভোলা, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনী, রংপুর ও লক্ষ্মীপুরে একজন করে রয়েছেন। এই এমপিদের কেউ কেউ অপকর্মের কারণে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের দূরত্বও তৈরি হয়েছে।

এমন এমপির সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তাদের দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত কয়েকজন নেতা। এসব এমপির নির্বাচনী এলাকায় বিকল্প প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে ১৭ স্বতন্ত্র এমপির মধ্যে অনেকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। এই স্বতন্ত্র এমপিরা দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে গত সংসদ নির্বাচনে লড়েছিলেন।

তৈরি হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা :দল গোছানোর পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ভোটের লড়াইয়ে লিপ্ত হতে সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত দলকে তৃণমূল থেকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে গোপনে তিনশ’ সংসদীয় আসনে আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকা ধরেই কাজ করছেন দায়িত্বশীল নেতারা। এলাকায় জনপ্রিয়তা, দলের জন্য অবদান, দুঃসময়ে মাঠে থাকা ও মামলা

মোকদ্দমার সংখ্যাসহ বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত : সংগ্রহ করা হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের। পাশাপাশি এ ব্যাপারে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে শিগগির মাঠ জরিপের কাজও শুরু হবে। মৃত্যুবরণ, অসুস্থতা, নিষ্ক্রিয়তাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আগামী নির্বাচনে শতাধিক আসনে নতুন মুখকে মনোনয়ন দেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। এসব আসনে জনপ্রিয়, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও যোগ্য তরুণ নেতা ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা ভাবছে দলটি। আগামীতে ক্ষমতায় এলে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে দলের সমর্থক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দকে সদস্য করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না থাকায় দেশে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বিজয়ী দলের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হলে সংকট কমে যাবে। এ ব্যাপারে তারা সরকারকে শিগগির সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আশা করেন, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা দ্রুত নির্বাচন চান। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো সার্বিক প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

আগামী কিছু দিনের মধ্যে বিচারাধীন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বেশ কিছু সিনিয়র নেতার নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ হওয়ার আশঙ্কা করছেন দলীয় নেতারা। দলের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব শূন্যতার সুযোগে বিএনপিকে অপ্রস্তুত রেখে আকস্মিকভাবে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারে সরকার।

একই সঙ্গে নেতারা এও বলেন, এ ধরনের আশঙ্কা সত্যি না হলেও সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে ২০১৯ সালে নির্বাচন করলে আর মাত্র আড়াই বছর সময় হাতে আছে। সে ক্ষেত্রেও বিএনপির বর্তমান নাজুক সাংগঠনিক অবস্থা থেকে দলকে নির্বাচনী ভোটযুদ্ধে লড়ার মতো উপযোগী করে গড়ে তুলতে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এসব হিসাব-নিকাশ করেই বিএনপি সারাদেশে দল গোছানোর পাশাপাশি নির্বাচনের সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থীদের খোঁজার কাজ শুরু করেছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর দলের এসব কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের মতো আর ‘ভুল’ পথে পা দেবে না বিএনপি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ওই নির্বাচন বর্জন করলেও ভবিষ্যতে আর ওই ‘অনড়’ অবস্থানে থাকবে না দলটি। একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে দেশি ও বিদেশিদের মাধ্যমে সরকারের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করবে দলটি। তাতে যতটুকু দাবি আদায় করা যায়, শেষ পর্যন্ত তা নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে দীর্ঘ এক দশক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকেও আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে বলে জানান জন কেরি।

সূত্র মতে, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার ব্যাপারে বিএনপি দেশে ও বিদেশে জনমত তৈরির জোর তৎপরতা শুরু করবে। খালেদা জিয়া আগামী নভেম্বরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণসংযোগ করবেন। সভা-সমাবেশে তিনি দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরবেন। নির্দলীয় সরকারের অধীনে প্রভাবশালী পশ্চিমা ও প্রতিবেশী দেশ ও দাতা সংস্থার সহযোগিতা আদায়ে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। বিরোধী দল হিসেবে যে কোনো সময়ে নির্বাচনের জন্য তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচিত সরকার নয়। তারা জোর করে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকায় দেশে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই তারা শিগগির নির্বাচন চান, যাতে জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করতে পারে।

তৃণমূল পুনর্গঠনের সমন্বয়কারী ও বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে তৃণমূল থেকে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠন করতে চান, যাতে সরকার আবার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো একতরফা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি করতে না পারে। এবার ওই ধরনের কোনো অপচেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

শতাধিক আসনে আসবে নতুন মুখ :দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা ধরেই আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। মৃত্যুবরণ, অসুস্থ, সংস্কারপন্থি, নিষ্ক্রিয়, আন্দোলনে ভূমিকা না রাখা, জনপ্রিয়তা হারানো নেতাদের তালিকা প্রণয়ন হচ্ছে। এতে শতাধিক আসনে নতুন প্রার্থী খুঁজে বের করতে হবে।

সূত্র জানায়, বিএনপির থিঙ্কট্যাঙ্ক ও দলের দায়িত্বশীল নেতারা সারাদেশে তিনশ’ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ করছেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে তারা অত্যন্ত গোপনে এ কাজ করছেন। রাজধানী ঢাকায় বিএনপি বেশ কয়েকটি আসনে নতুন প্রার্থী দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য না হলে প্রার্থী সংকট মোকাবেলায় ঢাকার একটি আসন থেকে খালেদা জিয়া নিজেও প্রার্থী হতে পারেন। এদিকে গুলশান আসন থেকে নির্বাচন করতে চান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ। মোহাম্মদপুর আসন থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নির্বাচন করলেও আগামী নির্বাচনে বরিশাল থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন তিনি। উত্তরা আসনে সাবেক ছাত্রদল নেতা আজিজুল বারী হেলালের পরিবর্তে এবার মেজর (অব.) কামরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ও দিচ্ছেন। যেসব আসনে বিগত নির্বাচনের প্রার্থী মৃত্যুবরণ, বয়োজ্যেষ্ঠতা, নিষ্ক্রিয়সহ নানা কারণে প্রার্থী শূন্যতা বিরাজ করছে, সেসব আসনে তিনি সম্ভাব্য নতুন মুখকে মাঠে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, টানাপড়েন চললেও শেষপর্যন্ত ২০ দলীয় জোটের আগামী নির্বাচনও জোটবদ্ধভাবে করবে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে জোটের শরিকদের অর্ধশতাধিক আসন দিতে পারে তারা। ওইসব আসনেও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম তালিকাভুক্ত করছে দলটি। কোনো কারণে আসন বণ্টনে সমঝোতা না হলে দলীয় প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তাই আগে থেকেই তিনশ’ আসনেই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৈরি করে রাখতে চান বিএনপি হাইকমান্ড। সূত্র : সমকাল

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।