আলীকদমবাসীর জল পিপাসা মিটবে কখন ?

৯ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প

বর্ষা মৌসুমে পানি সংকট নিয়ে সমস্যা না থাকলেও, বর্ষা শেষ হতে না হতেই চরম সংকটে ভুগতে হচ্ছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে। আর এই ভোগান্তি নিরসন করে মানুষের জলের পিপাসা মেটানোর জন্য উদ্দ্যেগ গ্রহন করা হলেও বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে আলীকদম পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সূত্রে জানা যায়, আলীকদম উপজেলার পুরোনো ডাকবাংলো এলাকায় পানি শোধনাগার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ২০১১ সালের জুন মাসে স্থাপন করা হয়েছে। ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজে কারিগরি সহায়তা করছে কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর অতিক্রম হলেও আলোর মুখ দেখেনি এই প্রকল্প।

উপজেলার থানাপাড়ার বাসিন্দা মঞ্জুর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে প্রকল্পের কাজটি। বর্তমানে আর্বজনা ও টয়লেটের স্তুপ হয়ে পড়ে রয়েছে ড্রেনগুলোতে। এই শোধনাগার ঠিক করা হলে আলীকদম উপজেলা সদরে পানির সংকট কেটে যাবে।

এ প্রসঙ্গে ১ নং আলীকদম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন জানান, পানি শোধনাগার প্রকল্পের বিষয়ে গতমাসে মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে কথা উঠেছে। শুকনো মৌসুমে সদর ইউনিয়নে পানির সংকট কারণে অনেক সময় দেখা যায় মহিলারা রাতেও পানি নিয়ে যায়। কোনো কোনো এলাকায় একটা মাত্র টিউবওয়েল বা রিংওয়েল থাকে। অনেক সময় পানিও পাওয়াও যায় না। পানির শোধনাগারটি ঠিক করা হলে আলীকদম সদর ইউনিয়নের পানির সংকট সমস্যা কেটে যাবে। মন্ত্রী মহোদয় এই বিষয়টা নিয়ে আশা করি একটা কিছু করবেন।

আলীকদম উপজেলা সদরে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, পানি সংকট নিয়ে ভুগতে হচ্ছে আলীকদম বাজারপাড়া, আমতলী পূর্ব পালংপাড়া, বাস টার্মিনাল এলাকা, উত্তর পালংপাড়া, সাবের মিয়াপাড়া, থানাপাড়া, সদর হিন্দুপাড়া ও অংবাই কার্বারিপাড়ার মানুষদের। পানি শোধনাগার ঠিক করা হলে ভুক্তভোগীদের পানীয় জলের সংকট কেটে যাবে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। কিন্তু অর্থ ছাড়ের দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্পটি ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয় নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজের কোনো অগ্রগতি না দেখে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

পানি শোধনাগার প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজটি স্থগিত হয়েছে। গত জুলাই মাসে প্রকল্পের বিলের বাজেটটি এসেছে। প্রশাসনিক অনুমতি পেলে আগামী মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

তিনি আরো জানান, এই প্রকল্পের পাশাপাশি নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি উপজেলায় পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ হাতে এসেছে, খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।