উ চ হ্লা ভান্তের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করলেন যারা

বান্দরবানের স্বর্ণ মন্দির খ্যাত, বুদ্ধ ধাতু জাদী, রাম জাদীর কর্ণধার, খিয়ং ওয়া কিয়ং এর বিহারের অধ্যক্ষ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু উপঞঞাজোত মহাথেরো উ চ হ্লা ভান্তের প্রয়ানে বান্দরবানসহ দেশের বৌদ্ধ অনুসারীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই বৌদ্ধধর্মীয় গুরুর প্রয়াণে যারা শোক প্রকাশ করেছে তা আমরা তুলে ধরছি।

উনার প্রয়ানে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ বুড্ডিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুনন্দপ্রিয় ভিক্ষু, তিনি এক বিবৃতিতে ভান্তের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু উপঞঞাজোত মহাথেরো উ চ হ্লা ভান্তের মৃত্যুতে এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, বিদেহী আত্মার পরলৌকিক সদগতি ও শান্তি কামনা করছি।

দি ওয়ার্ল্ড বুদ্ধ শাসন সেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা, শোয়েয়াংগ্য গইং বাংলাদেশ এর সবোর্চ্চ গুরু, বান্দরবান খিয়ং ওয়া কিয়াং রাজবিহার এর অধ্যক্ষ ও বিশ্ব নন্দিত বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ উ পঞ্ঞা জোত মহাথেরো (উচহ্লা ভান্তে)-এর মহাপ্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব কংজরী চৌধুরী।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বুদ্ধ শাসনের ধারক ও বাহক, বাংলাদেশের সদ্ধর্মের পুনঃজাগরণের প্রতীক শ্রীমৎ উ পঞ্ ঞা জোত মহাথেরো (উচহ্লা ভান্তে)-এর মহা প্রয়াণে বৌদ্ধ সমাজে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। বার্মিজ সরকার কর্তৃক মহা সদ্ধম্ম জ্যোতিকাধ্বজ উপাধিতে ভূষিত এ মহান আলোকপুরুষের পরলৌকিক আত্মার সদগতি ও নির্বাণ সুখ লাভের কামনায় বিনম্র চিত্তে প্রার্থনা করছি।

এদিকে পৃথক এক শোক বার্তায় বান্দরবান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা এক বিবৃতিতে উ পঞঞাজোত মহাথের (উ চ হ্লা ভান্তে)-এর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা আজ সোমবার এক বিবৃতিতে উ পঞঞাজোত মহাথের (উ চ হ্লা ভান্তে)-এর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রসিত খীসা পূজনীয় ভান্তেকে একজন অত্যন্ত সমাজ সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘তিনি জনগণকে শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে আজীবন কাজ করে গেছেন।’ ইউপিডিএফ নেতা আরও বলেন, ‘উ চা হ্লা ভান্তে অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করেননি, তিনি বরং দুঃসময়ে ও বিপদে আপদে জনগণকে সাহস ও মনোবল যুগিয়েছেন এবং তাদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিলেন।’

প্রসিত খীসা ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ বান্দরবান শহরে পাহাড়ি বসতিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে বিশেষভাবে স্মরণ করে বলেন, ‘ভান্তে সেদিন উক্ত বর্বর হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন এবং হামলা থেকে রক্ষা করতে আমাকেসহ তৎকালীন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় । আজ সোমবার সকালে (১৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ভান্তের লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয় ।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।