করোনায় অসহায় দিন পার করছে বান্দরবানের ফুটবল খেলোয়াড়রা

মহামারি করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে থমকে আছে সারা দেশের ক্রীড়াঙ্গন। বান্দরবানে ও দিন দিন বেড়ে চলেছে মহামারি করোনার প্রকোপ। ফলে এখন সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ থাকায় আয় না থাকায় কষ্টে দিন কাটছে অনেক ফুটবল খেলোয়াড়দের। পেশাদার খেলোয়াড়রা আছে ঘরবন্দী হয়ে। তাদের এখন এই মহামারির মধ্যে কি ভাবে দিন কাটছে। তা জানার জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করে পাহাড়বার্তা। আর এনিয়ে বান্দরবানের ফুটবল অঙ্গনের এবারের বিশেষ প্রতিবেদন।

বান্দরবান জেলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ও সাবেক বাংলাদেশ জাতীয় অনুর্ধ ২০ দলে খেলা শহীদুর রহমান সোহেল বলেন, করোনা এক একটা দিন যেন একবছর এর মতো মনে হচ্ছে। মন প্রাণ খুলে কিছু করতেও পারছিনা, খুব বিরক্তিকর অবস্থা। আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য তো খুব কঠিন সময় যাচ্ছে। কোন খেলা নাই, আয়ের পথও বন্ধ হয়ে আছে তিন মাস যাবৎ। খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের। বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

তিনি আরো বলেন, আবার কখন খেলা মাঠে গড়াবে তাও অনিশ্চিত। ফিটনেস ধরে রাখাও কষ্টকর হয়ে দাড়াচ্ছে আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য। অনেকে তো খেলা ছেড়ে চাকরী খোজ করছে।

বান্দরবানের জেলা ফুটবল দলের উদীয়মান ফুটবলার জাফর ইকবাল যিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলে ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে সাইফ স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলে থাকেন তিনি বলেন, আসলে সারা দেশের এখন যা অবস্থা অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে দেশের সকল খেলোয়াড়দের। ঘরবন্দী হয়ে আছি, তবুও মাঝে মাঝে নিজের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য বাসার ছাদে জিম করি ও মাঝে মাঝে মাঠে গিয়ে একটু রানিং এক্সারসাইজ করি।

তিনি আরো বলেন, আমি যেহেতু একজন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় তাই আমার ফুটবল ছাড়া আয় রোজগারের আর অন্য কোনো পথ নেয়। আজ প্রায়ই তিনমাস যাবৎ আমাদের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ, অনেক খারাপ লাগে। কখন আবার খেলা শুরু হবে সেই অপেক্ষায় বসে আছি।

তিনি বলেন, আসলে আমি বান্দরবান শহরে অনেক কম থাকি। কারণ আমার সব সময় ঢাকায় ক্লাবে থাকতে হয়। তাই আমার বেশির ভাগ সময় কাটে ঢাকায়। ক্লাবের খেলা আর জাতীয় দলের খেলার মধ্য দিয়ে দিন কাটে। কিন্তু এখন যেহেতু আমাদের সব ক্লাব বন্ধ ঘোষণা করেছে তাই এখন বাসায় আছি। একদিক দিয়ে ঢাকার ক্লাবকে অনেক মিস করি। আবার অন্য দিক দিয়ে এইটা ভালো লাগে এখন পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছি। পরিবারকে অনেক সময় দিতে পারছি।

বান্দরবান জেলা দলের খেলোয়াড় ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে টিম বিজেএমসির হয়ে খেলা অং মারমা বলেন, করোনা সময়ের প্রথম দিকটায় দিন ভাল যাচ্ছিল পরে ক্রমানুসারে দিন দিন খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছি। বর্তমান সময়ে দিনকাল খুব করুণ ভাবে পার করছি।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু পেশাদারি ফুটবল খেলি, সেহেতু আমাদের একমাত্র আয়ের পথ হলো ফুটবল খেলা, আজকে তিন চার মাস ধরে খেলাধূলা বন্ধ, এতে আমাদের আয়ের পথ ও বন্ধ। করোনার সময়ের আগে পর্যন্ত আমাদের জীবনযাপন স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বর্তমানে দিনকাল খুব খারাপভাবে কাটছে। তিন-চার মাস ধরে এক টাকার ও আয় নেই আমার।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।