টাকা না পেলে চাকরীর বারোটা বাজাবো : বান্দরবানের শিক্ষা অফিসের মনিটরিং কর্মকর্তা কবির

মো: কবির হোসেন, বান্দরবান প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মনিটরিং অফিসার (ডিপিইও)
মো: কবির হোসেন। বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মনিটরিং কর্মকর্তা (ডিপিইও)। কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব থাকলেও তিনি বান্দরবানের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। তিনি স্কুল ভিজিটের নামে লামাসহ অন্য উপজেলার শিক্ষকদের হয়রানি এবং মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে ঘুষ আদায় করেন বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের লামা উপজেলার বোচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলা সদর থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের সংখ্যা ৪জন থাকলেও ১জন ডি.পি.এড প্রশিক্ষনরত আছেন। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ১৫২জন, উপস্থিতি শতভাগ।
আরো জানা গেছে, ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৪৫মিনিট,বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করতে আসেন কবির। এসময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লামা শিক্ষা অফিসে বইয়ের চাহিদা জমা দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌছেন ৯টা ৫৫ মিনিটে। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধান, এই দশ মিনিট বিদ্যালয়ের কাজে বাইরে থাকার কারনে কবির অজুহাত পেয়ে যান। উত্তেজিত হয়ে বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল করতে থাকেন এই শিক্ষিকাকে। বিষয় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা নয়, বিষয় টাকা হাতানোর ফন্দি! এসময় তিনি এই প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে একটি কাগজে স্বাক্ষর এবং মোবাইল নাম্বার নিয়ে নেন, এবার শুরু হয় ভয়ভীতি। কবিরের স্কুল পরিদর্শনের সঙ্গী ছিলেন লামার আন্দারী জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। এই সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে ঘুষের ৩হাজার টাকা দাবী করেন।
বোচা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নন্দিতাশ্রী দেব চৌধুরী বলেন, নুরুল কবির মহোদয় কর্তৃক ঘুষ দাবী এবং নাজেহাল করার ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমি আবেদন করেছি।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, স্কুল পরিদর্শনের সময় এই শিক্ষিকা মনিটরিং কর্মকর্তা কবিরকে বলেন, ‘আমি শিওর ক্যাশ এর মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদান করি। নিজে দূর্নীতি করিনা পশ্রয়ও দেয়না’। এসময় কবির আরো উত্তেজিত হয়ে বলেন,‘দাবীকৃত টাকা না দিলে স্বাক্ষরযুক্ত লেখাটি নিয়ে চাকুরির বারোটা বাজাবেন’। এরপর কবির সাথে নিয়ে আসা অন্য বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মনিটরিং কর্মকর্তা (ডিপিইও) মো: কবির হোসেন পাহাড়বার্তাকে বলেন,শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ চাওয়ার যে অভিযোগ শিক্ষকরা দিয়েছে তা সত্য নয়।
আরো জানা গেছে, কবির কক্সবাজার জেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ার কারনে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার দক্ষিন বরইতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শহীদ মনসুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ দাবী করেন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এই ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক সুলতান মিয়া পাহাড়বার্তাকে বলেন,তিনি সব জায়গায় ঝামেলা করেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ নেবার ব্যাপার অনেক অভিযোগ পায়, বিষয়টি তদন্ত করে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।