থানচিতে নির্মানের ৩ বছরেই কালভার্ট সেতুতে ধস !

নিন্মমানের নির্মান কাজের কারনে নির্মান শেষ হওয়ার মাত্র ৩ বছরের মাথায় বান্দরবানের থানচি উপজেলার ছাংদাক পাড়া কালভার্ট সেতুটির মাঝখানে ধসে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, থানচি উপজেলার টিএন্ডটি পাড়া ও ছাংদাক পাড়ার মাঝখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০০৯ সালে কালভার্ট সেতু ১টি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে এরশাদ সরকারের সময়ে কালভার্ট সেতু ১টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর অর্থায়নে ২০১৩-১৪ সালে ১টি এবং ২০১৪-১৫ অর্থসালে ১টিসহ মোট ৪টি কালভার্ট সেতু তৈরি করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তরের ২০১৪-১৫ অর্থসালে ৩১ লক্ষ ৯৮ হাজার ১২৯ টাকা ব্যয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তত্ত্ববধানে টিএন্ডটি পাড়া সংযোগ রাস্তায় ছাংদাক পাড়া ঝিড়ির উপর কালভার্ট সেতু নির্মান করা হয়েছিল। গত কয়েক বছর যাবৎ অভ্যন্তরীণ সড়কে মোটর সাইকেল, সিএনজিসহ হালকা যানবহন চলছিল সেতুটির উপর দিয়ে। আর তাতেই কালভার্ট সেতুর মাঝখানে অংশ প্লাস্টার ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানে থানচি উপজেলায় ছাংদাক পাড়া অভ্যন্তরীন সড়ক টি দিয়ে প্রায় ৫০/৬০ গ্রামের মানুষ পাঁয়ে হেঁটে প্রতিদিন উপজেলা সদরের থানচি বাজার ও সরকারি বেসরকারি অফিস, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানান কাজে যাতায়াতে ব্যবহার করেন। আর এই সড়কের মাঝে মোট ৪টি কালভার্ট সেতু রয়েছে। একটিতে অল্প আকাঁরে ছোট গর্ত হলেও অপর সেতুতে বিশালাকার গর্ত। ফলে যান চলাচল ও মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।

থানচির ছান্দাক পাড়ার বাসিন্দা মংথুইচিং মারমা বলেন, নির্মান চলাকালীণ সময়ে আমরা পাড়াবাসী বলেছিলাম ভালো বালু ও ইটের কংক্রিট দিতে কিন্তু আমাদের কথা ঠিকাদার ও পিআইও অফিসের কর্মকর্তারা না শুনে নিন্মমানের পাথর ও কম সিমেন্ট দিয়ে কোন কিউরিংছাড়া নির্মান করা হয়েছে, তাই এই দশা।

জানা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয় হতে নির্মান কাজ বাস্তবায়নে সরকারি ভাবে স্থানীয় ঠিকাদার রায়হান কন্ট্রাকশান মালিক আবদুল রহিমকে আদেশ দেয়া হলেও থানচি বাজারে বাসিন্দা সামশু ইসলাম,বড় মদক বাজার বাসিন্দা শৈক্যচিং মারমা ও ছাংদাক পাড়া বাসিন্দা জেএসএস নেতা নমং প্রু মারমা ৪জন যৌথভাবে নির্মান করেন। নির্মিত কালভার্ট সেতুটি ২০১৫ সালে কাজ শেষে তৎকালিন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বান্দরবান সদর (চঃদঃ) থানচি উপজেলা (অঃদঃ) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনকে ঠিকাদার কর্তৃক নির্মিত কালভার্ট সেতুটি সম্পূর্ণভাবে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

ছাদাক পাড়ার বাসিন্দা থানচি মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ডলিচিং মারমা বলেন, গত বর্ষায় কালভার্ট সেতুটি মাঝ অংশ সামান্য বৃষ্টিতে গর্ত হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের অনেকবার বলেছি সংস্কার করার জন্য কিন্তু কাজ করেনি।

চলতি বছরে জেলার থানচি সদর ইউনিয়নে ২টি, তিন্দু ইউনিয়নে ১টি, রেমাক্রী ইউনিয়নে ১টি, মোট ৪টি কালভার্ট সেতু নির্মান কাজ চলমান রয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা কার্যালয় (পিআইও) অফিসের অফিস সহকারী মোহাম্মদ কবীর হোসেন জানান ।

এই ব্যাপারে মোহাম্মদ কবীর হোসেনকে ফোনে পাওয়া না গেলেও পিআইও কার্যালয়ের এমএলএসএস মোহাম্মদ রুবেল জানান, আমাদের পিআইও স্যার ২০ ডিসেম্বর বিয়ে অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন ।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদার ও নির্মানকারী জনসংহতি সমিতি নেতা নুমং প্রু মারমা বলেন, আমি ভালো করে কাজ করেছি এবং রিতিমতো হস্তান্তর করেছি, এভাবে গর্ত হওয়া বোধগম্য নয়।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।