থানচির একমাত্র মন্দিরের বেহাল দশা

থানচির হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র মন্দিরের ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল
বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানচি উপজেলা সদরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একমাত্র শ্রী শ্রী কালি মন্দির স্থাপনের পর থেকে সংস্কার না করার ফলে মন্দির একদিকে ঝুঁকিপূর্ন হওয়া, অন্যদিকে নতুন কোন মন্দির গড়ে না উঠার কারনে পূজাসহ প্রার্থনা করতে পারছেনা স্থানীয় হিন্দু অনুসারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভবন, পেগোডা, মসজিদ,গীর্জাসহ নানা অবকাঠামো নির্মানে সরকারি অনুদানে সংস্কারসহ নতুন অবকাঠামো তৈরী করে হলেও মন্দিরটির বেহাল দশার কারনে স্থানীয় সরকারি দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধি উপর ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে বান্দরবান জেলা পরিষদের অর্থায়নে এক তলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হলেও ঠিকাদার সংস্থা ভবনের নির্মাণ কাজ নিন্মমানে বাস্তবায়ন করার কারনে কালি মন্দির ভবন নির্মিত হওয়ার পর হতে ছাঁদে পানি পড়ার কারনে প্রার্থনার প্রতিমা পর্যন্ত বসানো সম্ভব হয়নি, ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। স্থানীয়রা আরো জানান, ভবনটি রতন কুমার বিশ্বাস ও বর্তমান এলজিইডি ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী রোকন মিঞা যৌথ কাজ করার এ পরিস্থিতির হয়েছে।
আরো জানা গেছে, ২০১৮/১৯ সালের পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সন্তোষ কর্মকার বলেন, থানচিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা কম, আমাদের প্রধান প্রধান পূজা গুলি করে থাকি। তিনি আরো বলেন, মন্দির ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগে জেলা পরিষদের নির্মিত ভবনের পার্শ্বে একটি টিন ছাউনি মন্দির তৈরী করে কোন মতে পূজা কাজ করে থাকি ।
জেলার থানচি উপজেলা প্রায় ১৫ পরিবারসহ ৩শত জন হিন্দুদের জন্য একটি মাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। আর এই প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার বা নতুন অবকাঠামো গড়ে না উঠায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বান্দরবানে সরকারের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মান ও সংস্কারের এতো অর্থ যায় কোথায়।
শ্রী শ্রী কালি মন্দিরে সাবেক সভাপতি পলাশ মল্লিক, সম্পাদক আঙ্গিয়া কর্মকার জানান, অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নয়ন হলেও থানচি উপজেলায় এই একটি মন্দির, তবুও মন্দিরটির উন্নয়ন করার সম্ভব হয়নি, ফলে নিয়মিত পূজা করা সম্ভব হচ্ছে না ।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।