দুরারোগ্য রোগীকে ওষুধ কিনতে যেতেও সাতকানিয়া থানা পুলিশের বাধা !

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গত ১ সপ্তাহ ধরে বান্দরবানের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আর এই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জেলার দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অনেকের নিত্যদিনের ওষুধ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। জেলায় ওষধ না পেয়ে আর সেই ওষুধ কিনতে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে সাতকানিয়া থানা পুলিশের বাধার কারনে ফিরে আসতে হয়েছে এক শিক্ষার্থীর পিতাকে।

সূত্রে জানা যায়, ওষুধ সংকটে কিডনী রোগে আক্রান্ত বান্দরবানের সদরের কেয়াং এর মোড় জাদিপাড়ায় ঘরে অসহায়ের মত দিন কাটাচ্ছে বান্দরবান সরকারি কলেজের বি এ অনার্স পড়ুয়া অসুস্থ শিক্ষার্থী উসুইচিং মারমা। ২০১৫ সালে দুরারোগ্য রোগ কিডনির (End Stage Renal Diseases) রোগে আক্রান্ত হয় সে। দরিদ্র পরিবারের এই যুবকের পিতা সানুঅং মারমা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের একটি কিডনী তাকে দান করে ২০১৫ সালের ৭ই মার্র্চ। সেই অবধি সানুঅং মারমা নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে সন্তানকে বাঁচাতে ওষুধ কিনে সেবা যত্ন করে যাচ্ছে। কিন্তু সারা দেশের গণপরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন বিপদ। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় দুরারোগ্য রোগ কিডনির ওষুধ বান্দরবানে না পেয়ে হতাশায় দিন কাটছে উসুইচিং মারমা ও তার পরিবারের।

উসুইচিং মারমার পিতা সানুঅং মারমা বলেন, প্রতিমাসে আমার সন্তানের চিকিৎসার জন্য আমাকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে ছেলেকে বাঁচানোর আকুল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় আমি আমার সন্তানের জন্য বান্দরবানে ওষুধ না পেয়ে চট্টগ্রাম যেতে সড়কে বের হয়ে পুলিশের বাধার কারনে ফিরে আসতে হলো।

আরো জানা গেছে, জরুরী ওষুধ কেনার জন্য চট্টগ্রাম যাওয়ার লক্ষে জেলার সিভিল সার্জন ও সদর থানার ওসির কাছ থেকে প্রত্যয়ন পত্র গ্রহণ করে অসুস্থ ছাত্রের পিতা সানুঅং মারমা রওনা দিলে বান্দরবানের সীমানা পয়েন্ট হলুদিয়া এলাকায় সাতকানিয়া থানা পুলিশ চট্টগ্রাম যেতে বাঁধা দেয়, ফলে তিনি ওষুধ কিনতে না পেরেই ফিরে আসেন।

বান্দরবান সিভিল সার্জন এর প্রত্যায়ন পত্র। ছবি-পাহাড়বার্তা

সানুঅং মারমা আরো বলেন, আমার সন্তানের বেঁচে থাকার জন্য ওষুধ কিনে আবার চট্টগ্রাম থেকে ফিরে বান্দরবান আসবো বললে ও তারা আমাকে ওষুধ কিনতে চট্টগ্রাম যেতে দিচ্ছে না। আমি চাই প্রশাসন আমাকে সহায়তা করে আমার সন্তানের ওষুধ কিনতে ব্যবস্থা করে দিক।

এদিকে দুরারোগ্য কিডনির রোগে আক্রান্ত উসুইচিং মারমা বলেন, আমি বাঁচতে চায়, আমার এই রোগের জন্য আমাকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয় কিন্তু আমার ওষুধ না পেলে আমি মারা যাব।

তিনি আরো বলেন, আমি যদি আর দুই একদিন ওষুধ না খেয়ে থাকি তবে আমার বড় ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হবে এর দায়ভার কি কেউ নেবে ?

এই ব্যাপারে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিউল কবির পাহাড়বার্তাকে বলেন, যদি এই ধরণের কোন ঘটনা ঘটে তাহলে সরাসরি আমাকে ফোন দিতে বলবেন, জরুরী কাজে যেতে কোন বাধা নেই।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।