দুর্গম পাহাড়ে জীবনরক্ষায় সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করে জীবনহানির ঝুঁকি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আজ রবিবার সকালে আলীকদম সেনা জোনের ব্যবস্থাপনায় ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ‘জরুরি চিকিৎসাসেবা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে দুর্গম পাড়াগুলো থেকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২২টি পাড়া থেকে ২৭ জন (১৯ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী) প্রশিক্ষণার্থীকে নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণে তীব্র রক্তক্ষরণ বন্ধ, জখম ব্যবস্থাপনা, হাড় ভাঙার প্রাথমিক চিকিৎসা, সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডোবা রোগীর জরুরি সেবা এবং অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলীকদম জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আবুল হাসান পলাশ, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাসান।
বক্তারা বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণ স্থানীয়দের মধ্যে জরুরি সেবাদানের সক্ষমতা তৈরি করবে এবং দুর্গম এলাকায় একটি মানবিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আলীকদম সেনা জোনের এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ভবিষ্যতে দুর্গম জনপদের চিকিৎসাসেবার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


