নাইক্ষ্যংছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মানে বাধা: অন্তরালে জামাত নেতা !

(1)বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সরকারী ভূমিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জামাত নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মানের জন্য গত বছরের ১১ এপ্রিল সরকারী খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সার্ভেয়ারসহ নাইক্ষ্যংছড়ি ফরেষ্ট অফিস সংলগ্ন নদীর পানির ব্যবস্থাসহ একটি খালি জায়গা ২৭০ নং মৌজা দাগ নং ৫০২ খতিয়ান ০১ এর ০.৩৩ শতক জমি প্রস্তাব করা হয়। আর এ সংবাদ পেয়ে কতিপয় জামাতপন্থী দখলদার জায়গাটি দখল করে রাতের আধারে নির্মান করে নতুন টিনের ঘর। ঘটনার পর গত ১৯ আগস্ট জেলা অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মফিদুল আলম চৌধুরী সরজমিনে পরিদর্শন করে এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এর সাইন বোর্ডসহ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জানা গেছে,

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা জামায়েত ইসলামীর আমির রফিক এবং প্রয়াত পুলিশ কনেস্টেবল আনোয়ার হোসেনের পুত্ররা উক্ত জমি নিজেদের দখলিয় দাবি করে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, আর এ ঘটনার নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মানের কাজ ঝুলে যায়।

জমির মালিকানা দাবি করা পুলিশ পুত্র মো: রাসেল পাহাড়বার্তাকে জানান, এটি দীর্ঘ দিন ধরে তার পৌত্রিক সূত্রে পাওয়া দখল আমলীয় জমি, তিনি সরকারী কোন জমি দখল করেনি।
আরো জানা গেছে, সর্বশেষ ২৮ আগস্ট উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিনসহ ইউএনও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের জায়গার দখল বুঝিয়ে দেন। এসময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেরকর্মীসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবছর উপজেলাটিতে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্বাধীনতার এত বছর পর স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মান জামায়েত নেতাদের ষড়যন্ত্রে বাতিল হবে এটা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
faiar pic 2সরকারি এক পরিপত্রের সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১৫৬ টি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন প্রকল্প ২০১৬-২০০১৭ অর্থ বছরে মুলধন খাতে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের জন্য ত্রিশ লক্ষ টাকার অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ১ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর এর যুগ্ন সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ আতাউল হল স্বাক্ষরিত পত্রে বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর নির্দেশনা দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্রে বরাদ্দের ৫ম দিবসে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নির্দেশনা দিয়েছেন।
এই ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম শাহেদুল ইসলাম পাহাড়বার্তাকে বলেন, এলাকার উন্নয়নে একের পর এক বাধা আসার কারনে উপজেলা প্রশাসন বিব্রত বোধ করছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।