পর্যটকের পদভারে মুখর অরণ্যসুন্দরী রাঙামাটি

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড়
ছুটির অবসরে পাহাড় আর হ্রদের শহর রাঙামাটিতে জমেছে উৎসবের আমেজ। হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়ী শহর রাঙামাটি। সাপ্তাহিক ছুটির সাথে থার্টি ফাস্ট নাইট যোগ হওয়ায় উৎসবের আমেজ নিয়ে এই পাহাড়ী শহরে বেড়াতে চলে আসেন কয়েক হাজার ভ্রমন পিয়াসী পর্যটক।
শহরের আবাসিক হোটেল গুলোর বেশিরভাগ রয়েছে বুকিং। অভিজাত আবাসিকস্থল পর্যটন মোটেল,হোটেল সুফিয়া,হোটেল নীডস হিল ভিউ,হোটেল মতি মহল,হোটেল গ্রীণ ক্যসেল, এসব হোটল গুলোতে রয়েছে পর্যটক। বেড়াতে আসা পর্যটকদের নানা ভোগান্তি আছে,তবু বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দ সবার চোখেমুখে।
চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা দম্পতি রাসেল ও ডায়না জানান, রাঙামাটি অত্যন্ত সুন্দর একটি শহর। এই শহরটিতে নিয়ে আরো গোছালো এবং পরিকল্পিত চিন্তা ভাবনা করা হলে এর পর্যটন সম্ভাবণা শতভাগ কাজে লাগানো যাবে। এদিকে রাঙামাটিতে এখন চলছে শীতকালীন পিকনিকের ব্যাপক সমারোহ।
রাঙামাটি শহরের প্রধান আকর্ষন হলো ঝুলন্ত সেতু। সাধারণত রাঙামাটি এসে এই ঝুলন্ত সেতুটি না দেখে কেউ ফেরত যেতে চাইনা। শহরের শেষপ্রান্তে কাপ্তাই লেকের একাংশে ৩৩৫ ফুট লম্বা এই ব্রিজটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্পট। এ সেতুকে বলা হয়, রাঙামাটির আইকন। নয়নাভিরাম বহুরঙা এই ঝুলন্ত সেতুটি দুইটি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মধ্যে গড়ে দিয়েছে হৃদ্দিক সম্পর্ক। সেতুটি পারাপারের সময় সৃষ্ট কাঁপুনি আপনাকে এনে দেবে ভিন্ন দ্যোতনা। এখানে দাঁড়িয়েই কাপ্তাই হ্রদের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করতে পারবেন। কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য।
শুক্রবার বিকালে রাঙামাটি পর্যটনের ঝুলন্ত ব্রীজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে হাজারো পর্যটকের ভিড়। পর্যটকের পদচারণায় ঝুলন্ত ব্রিজের কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। সেতুটি পর্যটকদের পারাপারের সময় সৃষ্ট কাঁপুনি যেন এনে দিয়েছে এক ভিন্নতা। দুর-দুরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের মাঝে যেন আনন্দের কমতি নেই। শহরবাসী নানা কাজের ব্যস্ততার মাঝে একবিন্দু অবসরে ছুটে যাচ্ছেন শহরবর্তী পেদাতিংতিং,সুভলং,বালুখালী কিংবা বরগাঙ বা বেড়াইন্যা রেষ্টুরেন্টে।
রাঙামাটি শহরের বািসন্দা শুক্রবার বিকালে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক শিশির বণিক এ প্রতিবেদককে বলেন, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হিসেবে আমার পরিবার নিয়ে পর্যটন ঘুরতে আসলাম খুবই ভাল লাগছে। আর প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে শত শত বাস-মাইক্রো-জিপ আর নানা গাড়ীতে আসছেন হাজার হাজার পর্যটক। তবে ছুটির দিনগুলোতে এই সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে যায়।
কুমিল্লার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে রাঙামটিতে বেড়াতে এসো এক ঝাঁক তরুণ-তরুনী বলেন, রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের দৃশ্য আমাদের সবাইকে মনোমুগ্ধকর করেছে। ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো সত্যিই অসাধারণ। প্রথমবারের মত আমরা রাঙামাটি ঘুরতে এসেছি। তবে রাঙামাটির পর্যটনে ঝুলন্ত সেতু ছাড়া এখানে আর বাড়তি কিছু দেখার মত নেই। তাই বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা গ্রহন করার পরামর্শ দেন তারা।
পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মোঃ আব্দুল হাই বলেন, রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলো বেশ মন কেড়ে নেওয়ার মত। পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কাপ্তাই লেক দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ। ঝুলন্ত ব্রিজের দুই তীরে আরো সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার। এখানে ব্রীজ ছাড়া দেখার মত আর কিছু নেই। ছোট ছোট বাচ্ছাদের জন্য আরো বিনোদনের ব্যবস্থা করলে ভালো হতো। আনন্দগুলো পরিবার নিয়ে পরিপূর্ণ হতো। তাছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য ভালো শৌচাগার থাকা দরকার।
রাঙামাটি পর্যটন বোট ব্যবসায়ী মোঃ আলাউদ্দিন টুটুল বলেন, পাহাড় ধ্বসের পর রাঙামাটিতে পর্যটন না আসাতে আমরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছিলাম। হতাশ হয়ে পড়েছিলাম কিন্তু শীতের ভরা পর্যটন মৌসুমে যেন আশির্বাদ হয়ে এসেছে পর্যটন ব্যবসাতে। গত বেশ কয়েকদিন ধরে রাঙামাটি পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে।
এদিকে শহরের রিজার্ভ বাজারে অবস্থিত হোটেল মতি মহলের স্বত্তাধিকারী শফিউল আজম বলেন, ভরা মৌসুমে পর্যটকের আগমন বেশ বড় আকারে সাড়া পাচ্ছি। সামনের মাসে আগমন আরো বৃদ্ধি পাবে। আমাদের হোটেলের ৭০% বুকিং হয়ে গেছে। বর্তমানের মত পর্যটকের আগমন অব্যাহত থাকলে আমরা এই পর্যটন মৌসুমে ব্যাপক লাভবান হবো। তবে তিনি হোটেল মালিকের পক্ষ থেকে বলেন, রাঙামাটিতে পর্যটন স্পটগুলোতে আরো সৌন্দয্য বৃদ্ধি, বাড়তি সুযোগ-সুবিধাসহ পর্যটন স্পট আরা বৃদ্ধি করলে পর্যটকের আগমন আরো বাড়বে। তাই তিনি প্রশাসনকে পর্যটনের এসব খাতে নজর দেওয়া তাগিদ দেন।
এদিকে, রাঙাাটি শহরের হোটের নীডস হিল ভিউ’র ম্যানেজার মো: লুৎফর রহমান বলেন,এই মৌসুমে আমাদের ব্যবসা ভালই চলছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রুম বুকিং রয়েছে।আমরা চেষ্টা করি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার।
রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন আকবর জানান, পাহাড় ধ্বসের প্রভাব ও কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কয়েক মাস আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে ভরা এই পর্যটন মৌসুমে আমরা পর্যটকের বেশ আগমনের সাড়া পাচ্ছি। ইতিমধ্যে থার্টি ফাষ্ট নাইটকে সামনে রেখে আমাদের মোটেলের প্রায় ৭০% রুম বুকিং হয়ে গেছে। আমরা আসা করি জানুয়ারীতে পর্যটকের আগমন রাঙামাটি আরো বৃদ্ধি পাবে। থার্টি ফাষ্ট নাইটকে সামনে রেখে বিশেষ কোন সুবিধা রয়েছে কিনা পর্যটকদের জন্য এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা নতুন বছরকে সামনে রেখে পর্যটন পিপাসুদের জন্য ইতিমধ্যে ২০% ডিসকাউন্ট দিয়েছি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।