বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে ফের অসন্তোষ !

বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের ১০ম বিহার অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করছে কেতু মহাথের। রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের ৯ম বিহারাধ্যক্ষ উ ঞানাসিগি (জ্ঞানপ্রিয়) মহাথের এর প্রয়ানের পর আগামী ২১ জুলাই সকাল ৯টায় তিনি এই দায়িত্ব গ্রহন করছেন।

বিহার সূত্রে জানা যায়, ৫২ বছর বয়স্ক অধ্যক্ষ কেতু মহাথের ১৯৯৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রবঞ্জ গ্রহন করেন। তিনি বর্তমানে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার খানসামা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োজিত আছেন। অধ্যক্ষ কেতু মহাথের কে রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে জেলার বৌদ্ধ সমাজের সিনিয়র নেতৃবৃন্ধের মধ্যে অনেকে অবহিত নন এবং বিহার কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যকে না জানিয়ে অনেকটা গোপনে বিহার অধ্যক্ষ হিসাবে কেতু মহাথের কে মনোনিত করে এই দায়িত্ব প্রদান করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে জেলার প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ বিহারটিতে অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে ফের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিহার কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘রাজা বাবু (বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী’র) সিদ্ধান্তক্রমে নতুন বিহার অধ্যক্ষ হিসাবে কেতু মহাথের কে এই দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে’।

আরো জানা গেছে, বিহার পরিচালনা কমিটিকে নিস্ক্রিয় রেখে বছরের পর বছর ধরে রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারটিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে উচহ্লা ভান্তে। গত বছরের ১০ এপ্রিল উচহ্লা ভান্তে প্রয়াত হলে এরপর বিহারটি সুন্দর ভাবে পরিচালনার জন্য মং ঙৈ প্রু চৌধুরীকে আহবায়ক করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং কে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট বিহার পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়, কিন্তু ক্ষোদ এই কমিটির অনেক’কে অবহিত না করে বিহারের নতুন অধ্যক্ষ হিসাবে কেতু মহাথের কে মনোনিত করে বিহারের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে।

এই ব্যাপারে রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার কমিটির সদস্য সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং মার্মা পাহাড়বার্তা’কে বলেন, ‘বিহার কমিটি, রাজা বাবু (বোমাং রাজা) ও বৌদ্ধ সমাজের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পরমর্শ ক্রমে কেতু মহাথের কে বিহারের দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে’।

আরো জানা গেছে, রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের ১০ম বিহার অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন, বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরীসহ জেলার বৌদ্ধ সমাজের সিনিয়র নেতারা।

এই ব্যাপারে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা পাহাড়বার্তা’কে বলেন, ‘আমি শীলাবান, পূজনীয়,দক্ষ ও যোগ্য অধ্যক্ষ চাচ্ছিলাম। জেলার ঐতিহ্যবাহী বিহারে অধ্যক্ষ নিয়োগের আগে আমার সাথে কোন আলোচনা করা হয়নি, এই নিয়োগ সঠিক ভাবে হয়নি। আমি যাতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকি, তার জন্য আমাকে আমন্ত্রন জানাতে কমিটির লোক আসছিল আমার কাছে, আমি অনুষ্ঠানে যাবার সন্মতি প্রদান করিনি’।

তিনি পাহাড়বার্তা’কে আরো বলেন, ‘বিহার পরিচালনার জন্য আমি বিহারের অস্থায়ি কমিটিও গঠন করে দিয়েছিলাম, কিন্তু এই নিয়োগ একটি গোষ্ঠির স্বার্থের জন্য হলে, এটি বৌদ্ধ সমাজ’সহ কারো জন্য মঙ্গলজনক হবেনা’।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ মে বান্দরবান বোমাং সার্কেলের রাজা উ চ প্রু চৌধুরী রাজগুরু বিহারের নবম বোমাং রাজগুরু ও বিহারাধ্যক্ষ হিসাবে রেভা: উ ঞানাপিয়া মহাথেরকে দায়িত্ব প্রদান করেন। গত বছরের ১১ জুলাই উ ঞানাপিয়া মহাথের এর প্রয়ানের পর বিহারটির অধ্যক্ষ হিসাবে নতুন দায়িত্বভার গ্রহন করবেন কেতু মহাথের।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।