বান্দরবানের নির্যাতিতা সেই শিশুর ঠাঁই হলো সেফ হোমে

বান্দরবানে আলোচিত সেই আইনজীবী দম্পতি কর্তৃক নির্যাতিত শিশু জহুরা (৯) কে সেফ হোমে প্রেরণ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) বান্দরবান আমলী আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হোছাইন এর আদেশের প্রেক্ষিতে জেলা প্রবেশন অফিসারের মাধ্যমে মহিলা ও শিশু কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন (সেফহোম) চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পাঠানো হয়।

বান্দরবান জেলা প্রবেশন অফিসার সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, বান্দরবান আমলী আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশনা মোতাবেক শিশু জয়নাব আক্তার জহুরাকে মহিলা ও শিশু কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন (সেফহোম), হাটহাজারী, চট্টগ্রাম এর উপ তত্ত্বাবধায়ক এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, বান্দরবানে উকিল দম্পতির বাসায় শিশু গৃহকর্মী জহুরা (৯) কে নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

এ ঘটনায় ২২ জুলাই রওশন আরা ভিকটিমের পক্ষ হয়ে শিশু আইনে বান্দরবান জজ কোর্টের উকিল সারাহ সুদীপা ইউনুছ ও তার স্বামী কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অর্গানিয়ার লিগাল এ্যাডভাইজার ফয়সাল আহমেদ কে আসামী করে বান্দরবান সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে।

আরো জানা গেছে, ২০ জুলাই (মঙ্গলবার) সকালে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বান্দরবান সদরের বনরুপা পাড়ার এই দম্পতির বাসা থেকে পালিয়ে যায় নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী শিশু। পরে ২১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, সেখানে দেখা যায় একজন ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করছে এবং সে তার উপর নির্যাতনের বিভিন্ন বর্ণনা দেয় এবং তাকে নির্যাতনের জন্য তার গৃহকর্তী মানবাধিকারকর্মী সারাহ সুদীপা ইউনুসের নাম বলতে থাকে। ২ মিনিট ৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতে সে নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে পালিয়ে আসার বর্ণনা দেয় এবং তাকে জ্বলন্ত মশার কয়েল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়ে দেয়ার নির্মম কাহিনী বর্ণনা করে।

প্রসঙ্গত,সারাহ সুদীপা ইউনুস, ফয়সাল আহম্মেদ’কে বিয়ে করার পর ফয়সাল আহম্মেদ বান্দরবানে এসে কোয়ান্টামের দায়িত্ব গ্রহন করেন। অন্যদিকে প্রয়াত রাজা কেএস প্রু এর কন্যা মানবাধিকার নেত্রী ডনাই প্রু নেলীর সহযোগিতা ও শেল্টারে রাতারাতি বান্দরবানের মানবাধিকার নেত্রী বনে যান সারাহ সুদীপা ইউনুস। একের পর এক অপরাধ করলেও এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। সারাহ সুদীপা ইউনুস ও স্বামী ফয়সাল আহম্মেদ এর পূর্ব পুরুষ বান্দরবান জেলার বাসিন্দা না হলেও ফয়সাল আহম্মেদ জেলার রাজবিলা ইউনিয়নের একজনকে বাবা সাজিয়ে জাল কাগজ পত্রের মাধ্যমে বান্দরবানের একের পর এক ভূমি কিনে বান্দরবানের নাগরিক বনে যান। বান্দরবানের সুয়ালকসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্যজনের একাধিক ভূমি দখলের অভিযোগ আছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।