বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী উৎসব কক্সইচাঃ পোয়ে

মঙ্গল শোভাযাত্রা, জুম চাষের নতুন ফসল প্রদর্শন, রকমারী পিঠার সমাহার আর লোক সংগীত ও লোক নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী বান্দরবানে জাঁকজমক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব কক্সইচাঃ পোয়ে:।

আজ ৯ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে আয়োজনে সদর উপজেলা কুহালং ইউনিয়ন এর থোয়াইংগ্য পাড়ায় এই উৎসব কক্সইচাঃ পোয়ে (মারমাদের নবান্ন উৎসব) অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় মারমাদের নবান্ন উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি মঙ্গল শোভযাত্রা বের হয়। পরে মারমাদের নানান রকমারি তৈরী পিঠা, জুম চাষে ব্যবহার করা যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করে অতিথিরা। অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংস্কৃতি তুলে ধরে জুমের নতুন বিভিন্ন ফলমুল এবং সবজি সর্ম্পকে সকলকে পরিচয় করিয়ে দেয় আয়োজকেরা।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সিঅং খুমীর সভাপতিত্বে অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান ক্ষু নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট এর পরিচালক মং নু চিং, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতি পাইহ্লা অং, থোয়াইংগ্যা পাড়ার কারবারী চিংশৈথোয়াইসহ স্থানীয় জুমচাষী, পাড়াবাসী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, মারমাদের ঐতিহ্যগুলো আজ বিলুপ্তির পথে, সেই ঐতিহ্যগুলো ধরে রাখতে হলে আমাদেরকে নিজেদের সংস্কৃতিকে আগলে রাখতে হবে।

এসময় তিনি আরো বলেন,পার্বত্য এলাকার পরিবেশ প্রকৃতি ও সংস্কৃতি দেশে বিরল। ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির পাশাপাশি বাঙ্গালীদের সহঅবস্থানে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা নিজ নিজ সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য সঠিকভাবে ধরে রাখলে এই ঐতিহ্য একসময় বিশ্বে বাংলাদেশের নামকে আরো সমাধিত করবে।

সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সিঅং খুমী বলেন, প্রতিবছরই এই সময়টা জুম কাটা শেষে জুম থেকে নতুন ধান সংগ্রহ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ফলফলাদি সংগ্রহ করে প্রথমেই সৃষ্টিকর্তার উদ্দ্যেশ্যে প্রদান করে, পরে ধীরে ধীরে বিক্রি করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির জুম চাষীরা।

এসময় তিনি আরো বলেন, নবান্ন উপলক্ষে এই ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগুলো সকলের মধ্যে পরিচিতি পায় আর এই সংস্কৃতি বেঁচে রাখার জন্য আমাদের সকল অপসংস্কৃতি থেকে দুরে থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানর শেষ পর্যায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পাংখু ও জ্য নৃত্য এবং লোকসংগীত পরিবেশন করে মারমা শিল্পীগোষ্টির শিল্পীরা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।