বান্দরবানে ধারন ক্ষমতার বাইরে পর্যটকের আগমনে পর্যটকবাহী গাড়ি ভাড়া লাগামহীন !

টানা তিনদিনের ছুটিতে বান্দরবানে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটায় কোন হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের কোনো কক্ষ খালি নেই। ফলে হোটেলের সন্ধানে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের অলিগলিতে ঘুরতে দেখা যায় পর্যটকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন জেলা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে যেকোন সরকারি ছুটিতে বান্দরবানে ঘুরতে যায় হাজার হাজার পর্যটক। আর শীতে মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে কয়েকগুণ। এর ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। ফলে রীতিমত জেলা শহরের নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রে আধা কিলোমিটার পর্যন্ত যানযটের সৃষ্টি হয়, এর ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা ভোগান্তিতে পড়ে পর্যটকরা। পর্যটকের আগমনের তুলনায় হোটেল মোটেল গড়ে না উঠার কারনে
বেকায়দায় পড়তে হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের।

আরো জানা গেছে, বান্দরবান শহরে হোটেল মোটেল মালিক সমিতির আওতাভুক্ত ৫৫টি হোটেল থাকলেও কোন হোটেলে এখন সিট খালি নেই। শুধু হোটেল নয়, পর্যটক বহনকারী চাঁদের গাড়ি (জীপ) গাড়ি ভ্রমনের জন্য পাওয়া এখন যেন আকাশের চাঁদ পাওয়ার সমান। আর এই সুযোগে একটি চাঁদের গাড়ি জেলা শহর থেকে নীলগিরি যেতে
৩,৫০০ থেকে সাড়ে চার হাজার ভাড়া নিলেও এখন সেই ভাড়া নিচ্ছে ৭ হাজার টাকায়।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আব্দুল হাকিম বলেন, বান্দরবানে গাড়িভাড়া দিতে বিস্মিত হয়েছি, মাত্র ৪০-৪৫ কিলোমিটার ভ্রমনে যেতে ৭ হাজার টাকা নিয়েছে, এভাবে হলে বান্দরবানে পর্যটকরা ২য়বার আসবেনা।

বান্দরবানের হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ জানান, বিজয় দিবস আর বৃহস্পতি,শুক্র এবং শনিবার বন্ধ পেয়ে কয়েক হাজার পর্যটকের আগমন হয়েছে আর এতে জেলা সদরে কোন হোটেলে আর রুম নেই, দীর্ঘদিন পরে জমজমাট হয়েছে বান্দরবান।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বান্দরবানের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, জেলা শহরের মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটার কারনে সব হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট পর্যটকদের পর্যটকের সরব উপস্থিতি। এতে খুশি আবাসিক হোটেলের মালিক-কর্মচারীরাও, এরফলে করোনাকালীন ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে বলে প্রত্যাশা করছে।

এদিকে বান্দরবান ট্যুারিস্ট পুলিশর ইনচার্জ মো.আমিনুল হক বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমনে ট্যুারিস্ট পুলিশ কাজ করছে, পর্যটকেরা যাতে বান্দরবানে সকল পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমন করে আবার নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারে
সেজন্য ট্যুারিস্ট পুলিশের সদস্যরা নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।