বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই গবেষণা করতে হবে : মন্ত্রী বীর বাহাদুর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা অবশ্যই করতে হবে। গবেষণার লব্ধ বিষয় থেকে অনেক মূল্যবান জিনিস বেরিয়ে আসে। সেগুলো দেশ ও জাতির কল্যাণে ছড়িয়ে দিতে হবে ।

আজ শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বান্দরবান জেলার ভেনাস রিসোর্টে আয়োজিত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন ও বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সংক্রান্ত দু’দিন ব্যাপী ল্যাব এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন ।

তিনি বলেন, শুদ্ধিচার নিচ থেকেই সব জায়গায় করতে হবে । এই পর্যায়ে জ্ঞানী গুণী, শিক্ষকবৃন্দ যারা আছেন তারা যা ভাবেন সেগুলো নিয়ে গবেষণা করে কোথায়, কি প্রয়োজন সেগুলো লিপিবদ্ধ করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। এগুলো এগিয়ে নিয়ে গেলে রাষ্ট্র, সমাজ এবং ব্যক্তি উপকৃত হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, শুদ্ধাচারের-শুদ্ধি আমাদের সকলের মাঝে ধারন করতে হবে। আমরা দেশকে ভালোবাসি, সমাজকে ভালোবাসি । সারা দুনিয়ার মাঝে একটা শিক্ষিত জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবার জন্য যেটুকু করা দরকার সেটা আমাদের সকলকে করতে হবে ।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কর্মকান্ডে স্বচ্ছ ও গতিশীল করা এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে শুদ্ধ আচরণ সৃষ্টি এবং তা কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) জাতীয় পর্যায়ে এই ল্যাবের আয়োজন করেছে ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং,এম.পি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন.এম. জিয়াউল আলম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান, এনডিসি এবং ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মো: আখতার হোসেন, প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, প্রফেসর ড.মোসাজ্জাদ হোসেন ও প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর।

এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভাগের পরিচালক ড. শামসুল আরোফন জানান,বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৪, ৭ম ও ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০, প্রাসঙ্গিক উচ্চশিক্ষানীতি উপস্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন, নির্বাচনী ইশতেহার, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি পর্যালোচনা ইত্যাদি বিষয়াদি দু’দিনব্যাপী আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

তিনি আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চলমান কর্মকাণ্ড আরো স্বচ্ছ, গতিশীল ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে এ পর্যন্ত দেশের ৪৬ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

অপরদিকে, রাষ্ট্র ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে শুদ্ধ আচরণের চর্চা এবং তা কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করার জন্য জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে রিসোর্স পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, সিনিয়র সহকারী সচিব আর এইচ আলাউল মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ড. অরুনা বিশ্বাস, বার্ষিক কর্মসম্পাদন বিভাগের উপ সচিব জাকিয়া পারভীন, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো: মামুনুর রশীদ ভুইঞা, সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ।

অনুষ্ঠানে দেশের ২১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির ফোকাল পয়েন্টবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন ।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।