বিহার নিয়ে থোয়াই চ প্রু মাষ্টারদের চক্রান্তের জবাব দিলো বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট

ক্যশৈহ্লা’র উদ্যোগ বৌদ্ধ সমাজের কল্যাণে সহায়ক

বান্দরবানের রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার নিয়ে একের পর এক চক্রান্ত আর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্ট মনে করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা’র উদ্যোগ বৌদ্ধ সমাজের কল্যাণের সহায়ক। এছাড়া বৌদ্ধ সমাজের কল্যানের জন্য ক্যশৈহ্লা’র বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন দৃষ্টান্ত মূলক উল্ল্যেখ করে এসব বিষয়ে ক্যশৈহ্লা’কে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে জড়ানো মোটেই উচিত নয় এবং এটি থোয়াই চ প্রু মাষ্টার কর্তৃক আওয়ামী লীগকে হেয় প্রতিপন্ন করার সামিল বলে মনে করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট। আর এনিয়ে এস বাসু দাশ এর বিশেষ প্রতিবেদন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষণ বড়ুয়া কর্তৃক প্রেরিত এক পত্র পাহাড়বার্তার কাছে আসে। আর সেখানে যা বলা হয়,তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

বান্দরবানের রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি থোয়াই চ প্রু মাস্টার গং কর্তৃক ‘ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া ক্ষমতা অপব্যবহার করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লা কর্তৃক রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধমূর্তি সীলগালাকরণ এবং কমিটির হাতে চাবি না দেয়া’ সংক্রান্ত অভিযোগ পত্রের প্রেক্ষিতে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্ট কর্তৃক বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এর নিকট হতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ইতিমধ্যে পরিষদ কর্তৃক ব্যাখ্যা প্রেরণ করা হয়। যা এতদসঙ্গে সংযুক্তি আকারে প্রেরণ করা হলো।

১. আনীত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও সার্বিক পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয় যে,

রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের ভদন্ত উঃ পঞঞাজোত মহাথের (উচহ্লা ভান্তে) প্রয়াণোত্তর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা কর্তৃক যে সকল উদ্দ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে তা বৌদ্ধ সমাজের কল্যাণের সহায়ক।

তিনি জেলা পরিষদের প্রধান হিসাবে উক্ত কার্যক্রমগুলো গ্রহন করেছে বলে মনে হয়। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও এতে তিনি রাজনৈতিক কর্মী বা সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পর্শকাতর বৌদ্ধ বিহার বা ধর্মীয় বিষয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের সত্যতা পরিলক্ষিত হয়নি।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে ক্য শৈহ্লা এর গৃহিত কার্যক্রমের সাথে আওয়ামী লীগের সভাপতির পদকে জড়ানো মোটেই উচিত নয়। এটি আওয়ামী লীগকে হেয় প্রতিপন্ন করার সামিল।

২.পার্বত্য এলাকার প্রথাগত আইন বা রীতি-নীতি ও শাসন ব্যবস্থা সমতল জেলা থেকে ভিন্নতর। বিহারা ধ্যক্ষের প্রয়াণোত্তর প্রয়াতের মরদেহ আনা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ফাং (নিয়োগ) ইত্যাদি বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়া অমূলক নয়। সমূহ বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য যে কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আগাম উদ্দ্যেগ নেয়ার অবশ্যকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ও সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ, বোমাং রাজা, পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদ এবং বিহার কমিটির সমন্বয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক গৃহিত সার্বিক উদ্দ্যেগ যথাযথ হিসাবে বিবেচিত হয়।

৩.

সর্বোপরী বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ যেহেতু জেলার সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠান সেহেতু নিঃসন্দেহে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের প্রয়াত ভদন্তের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও বিহার পরিচালনার বিষয়ে সৃষ্ট বা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সার্বিক সমন্বয় সাধণের গৃহিত উদ্দ্যেগন প্রশংসনীয়।

৪.বৌদ্ধ ধর্মের রীতি-নীতি ও প্রথাগত সামাজিক রীতি-নীতি সমুন্নত রেখে সামগ্রিক কল্যানার্থে চলমান প্রয়াত বিহারাঅধ্যক্ষের মরদেহ আনা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদন এবং রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের

বিহারাধ্যক্ষ ফাং (নিয়োগ) ও বিহার পরিচালনার কার্যক্রম পার্বত্য জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সকল প্রশাসন/প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সুষ্ঠু সমন্বয়ে সম্পাদন হবে বলে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্ট দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

৫. সার্বিক বিবেচনায় বোমাং সার্কেলের প্রথাগত সামাজিক রীত-নীতি এবং রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বজায় রেখে বোমাং রাজা কর্তৃক রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ফাং (নিয়োগ) সহ বিহার পরিচালনার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জেলা পরিষদের সমর্থন ও সন্মতি জ্ঞাপন যথাযথ হয়েছে।

আরও পড়ুন
Loading...