যাত্রী সেবায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে নামছে বিআরটিসি’র এসি বাস

সু-সংবাদ!

অবশেষে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে যাতায়তকারী যাত্রীদের জন্য সু-সংবাদ! নিরসন হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি। জনগনের দাবীর মুখে এই সড়কটিতে এসি বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। আগামী ১৩ অক্টোবর সকাল থেকে বিআরটিসির নতুন এসি বাস চালু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে যাত্রী সেবার মান উন্নয়নের জন্য টাটা কোম্পানীর সদ্য আমদানি করা নতুন এসি বাসগুলো নামানো হবে বিআরটিসির পক্ষ থেকে। প্রতিদিন প্রাথমিক ভাবে বান্দরবান ও চট্টগ্রাম উভয় দিক থেকে ৬ বার চলাচল করবে এই বাস, পরে যাতায়তের আরও পরিধি বাড়ানো হবে। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য বাসগুলোতে এলইডি মনিটরও রয়েছে ২টি। ইতিমধ্যে এই বাস চালুর জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। বাস স্টেশনগুলোতে বাস কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে,বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী পূরবী এবং পূর্বাণীর ভাড়া ছিল ১১০টাকা টাকা কিন্তু ক্লোজ ডোর সার্ভিস চালুর নামে ২০টাকা করে ভাড়া বাড়িয়ে করা হয় ১৩০টাকা। তখন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দাবী করা হয় কোন যাত্রী পথে উঠানো হবেনা, কিন্তু পথে যাত্রী উঠানো এবং চলতি বছর জ্বালানী তেলে দাম কমার পরও ভাড়া কমানোর ব্যাপারে কোন রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বান্দরবান থেকে কোন যাত্রী চট্টগ্রামের পটিয়া যেতে চাইলে তাকে চট্টগ্রামের টিকেট কেটে পটিয়া যেতে হয়, এমন অভিযোগ যাত্রীদের।

দেশের কোন পরিবহন সংস্থায় যাত্রীদের লাগেজসহ মালামাল পরিবহনে ভাড়া নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও জেলার এই দুটি পরিবহণে লাগেজের জন্য ১শ থেকে দেড়শ টাকা ভাড়া আদায় করা হয় বলে জানান, বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে নিয়মিত যাতায়তকারী যাত্রী জমিরুল ইসলাম সজীব।

আরো জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বান্দরবান শহরের বাসস্টেশন এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে একটি গাড়ি সকাল ১০টায় বান্দরবান বাস ষ্টেশনে পৌঁছামাত্র গাড়িটির চালক মুন্সি পর্যটকদের গাড়ীর ভেতরে আটকে রেখে গাছের লাঠি দিয়ে মারধর করে। এতে চট্টগ্রাম মহসিন কলেজের বিবিএ’র ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জিসান ও রায়হানসহ কয়েকজন মারাত্মক জখম হয়। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানে যততত্র যাত্রী নেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাদের মারধর করা হয়। এমন অভিযোগ করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে নতুন বাস সার্ভিস চালু করার দাবী উঠে।

এই ব্যাপারে বান্দরবান শহরের আর্মি পাড়ার বাসিন্দা মো: জয়নাল বলেন,পর্যটক সেবায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে এসি বাস চালু হচ্ছে, এটা অবশ্যয় খুশির খবর। রুটে যাতে বাসগুলো টিকে থাকে এই ব্যাপারে যাত্রীদের সবার আগে সজাগ থাকতে হবে।

বান্দরবান-ঢাকা সড়কে বিলাসবহুল বিভিন্ন কোম্পানির এসি বাস সার্ভিস চালু থাকলেও বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-কক্সবাজার সড়কে এসি বাস না থাকার কারনে পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীদের সমস্যা হতো। আর এই রুটে এসি বাস চালুর ফলে আরামদায়ক ভ্রমনের চট্টগ্রাম থেকে পর্যটকরা সহজেই বান্দরবান ভ্রমনে আসতে পারবে, ফলে পর্যটক বাড়বে বান্দরবান জেলায়।

প্রসঙ্গত,২০১৩ সালে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে বিআরটিসি এর বাস চালু করা হয়। গাড়ি সরবরাহ অপ্রতুল থাকায় কিছুদিন পর বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বান্দরবান জেলার বিআরটিসির প্রতিনিধি সাদেক হোসেন চৌধুরী বলেন,বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রী সেবার মানের কথা চিন্তা করে বিআরটিসি বাস যথাযথ সেবা প্রদান করতে চেষ্টা করবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।