রুমায় আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সহ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন!

স্যাটেলাইট চ্যানেল ৭১’টিভি’তে প্রচারিত সংবাদটির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪নং গালেঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শৈউসাই মারমা। গত বৃহস্পতিবার (১২আগস্ট) বিকালে রুমা বাজারে হরি মন্দির প্রাঙ্গণে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান শৈউসাই মারমা বলেন,গত ১০ আগস্ট ৭১’টিভির সুর্যলোকের অন্ধকার টিম কর্তৃক তিন পার্বত্য জেলায় সরকারী সৌর বিদ্যুৎ বিতরণ নিয়ে তিন কোটির টাকার বাণিজ্য উল্লেখ করে প্রচারিত সংবাদে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে আমাকে জড়ানো হয়েছে। আমি এতে সামাজিক, মানসিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে আমার অবর্ণনীয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

আমি ৭১’ টিভি প্রচারিত সংবাদটি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন গালেঙ্গ্যা ইউপি চেয়ারম্যান শৈউসাই মারমা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বিগত ২০১৮ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে প্রকৃত উপকারভোগিদের মাঝে সোলার প্যানেলগুলো সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়েছিল।

চেয়ারম্যান শৈউসাই অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সামনে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩ বছর পর ইউপি চেয়ারম্যান সম্ভাব্য প্রার্থী ও গালেঙ্গ্যা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক যুগেজ ত্রিপুরা আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য জন্য পরিকল্পিতভাবে আমার ভাঙ্গিয়ে তাঁর (যুগেজ ত্রিপুরা) নিকটাত্মীয় -স্বজনদের শিখিয়ে-পড়িয়ে ৭১’টিভির সাংবাদিক দ্বারা আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করিয়ে কুৎসা ছড়াচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান শৈউসাই মারমা ছাড়াও যারা একাত্তর টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল তাদের মধ্যে গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের জৈতুন পাড়া কারবারি লাব্রাড ত্রিপুরা ও শিমন ত্রিপুরা, নকুল ত্রিপুরাসহ আরো বেশ কয়েকজন বক্তৃতা দেন।লাভ্রাড ত্রিপুরা বক্তৃতায় যুগেজ ত্রিপুরা কর্তৃক তাঁকে যেভাবে শিখিয়ে পড়িয়ে টিভি সাংবাদিকের সামনে বলতে বলা হয়েছিল, সেসব বিষয়ে বক্তব্যে তুলে ধরা হয়।

লাভ্রাডকারবারি ও শিমন ত্রিপুরা বলেন যুগেজ ত্রিপুরাই আমাদের জৈতুন পাড়ার নয়টি-পরিবারকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী উপহার সোলার প্যানেল নিয়ে দেবে। এ মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতি পরিবার থেকে দুই হাজার করে নয় পরিবারে ১৮ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে তাঁকে। কিন্তু এখনো সোলার পাইলাম না, টাকাও ফেরত দেয়নি গালেঙ্গ্যা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক যুগেজ ত্রিপুরা। টাকা দেয়ার ব্যাপারে তাদের স্বাক্ষী প্রমাণ আছে বলে দাবি করেন পাড়া কারবারী লাভ্রাড ত্রিপুরার।

এই ব্যাপারে যুগেজ ত্রিপুরা টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেন, আদায় করা সব টাকাই ইউপি চেয়ারম্যান শৈউসাই মারমাকে দিয়েছিলাম। তবে যুগেজের কাছে চেয়ারম্যানকে টাকার বিপরীতে প্রাপ্তি স্বীকারমূলক কোনো কাগজ নেই বলে জানালেন আ. লীগের নেতা যুগেজ ত্রিপুরা।

এদিকে ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার অনচন্দ্র ত্রিপুরা মুঠোফোনে বলেন সোলার প্যানেল বিতরণে চেয়ারম্যান বনাম যুগেজ ত্রিপুরা কার কাছ থেকে কে- কাকে টাকা নিলো এনিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসবে নিঃসন্দেহে। সঠিক তদন্ত করে দোষিদের শাস্তির দাবি জানান।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।