রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নেমে সাদিজ শাহরিয়ার সানম (২৪) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সীতার পাহাড় এলাকার পাথরঘাটা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাদিজ শাহরিয়ার সানম নরসিংদীর রায়পুর থানার মামুদপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা মো. নাছির উদ্দিন অবসরপ্রাপ্ত এএসপি। সাদিজ একজন কলেজছাত্র ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও নরসিংদী এলাকা থেকে ১২ জনের একটি পর্যটক দল কাপ্তাইয়ের সীতার পাহাড় এলাকায় বেড়াতে আসে। রোববার দুপুরে বেড়ানো শেষে দলটির সদস্যরা কর্ণফুলী নদীর পাথরঘাটা এলাকায় গোসল করতে নামেন। এ সময় পানিতে নেমে সাদিজ নিখোঁজ হন।
কাপ্তাই সীতাঘাট মন্দিরের অধ্যক্ষ জ্যোতির্ময়ানন্দ মহারাজ ও ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সরোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। পরে উদ্ধারকারী ও ডুবুরি দল নদীতে নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে অভিযান শুরু করে। কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, রাঙামাটি থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। পাশাপাশি কাপ্তাই নৌবাহিনী ঘাঁটি শহীদ মোয়াজ্জেমের ডুবুরি দল ও কাপ্তাই থানা-পুলিশ উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে।
পরে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে নদী থেকে সাদিজ শাহরিয়ার সানমের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। পরে মরদেহটি কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা বলেন, হাসপাতালে তাঁকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম ও কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মো. মাহমুদুল হাসান রুবেল।


