কাপ্তাইয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নারানগিরি ১নং পাড়ায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটাতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা হয়েছে একটি অস্থায়ী ঝুলন্ত সেতু। পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি পরিবারের বসবাস এই পাড়ায়।

এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ছিল নারানগিরি খালের উপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো। ওই সাঁকো ব্যবহার করেই শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করতো। এছাড়া মন্দির ও প্যাগোডায় যেতে, কর্মজীবী মানুষদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে এবং সাপ্তাহিক রাইখালী বাজারে যেতেও এই সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হতো স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগী, এমনকি গর্ভবতী নারীদেরও চিকিৎসার জন্য এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করতে হতো। প্রতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঁকোটি ভেসে গিয়ে কর্ণফুলী নদীতে তলিয়ে যেত। বছরের পর বছর বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন এলাকাবাসী।

অবশেষে নিজেদের উদ্যোগে গত ১৫ দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রম ও স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে একটি অস্থায়ী ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন তারা।

NewsDetails_03

মঙ্গলবার (২৬ মে) সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

এলাকার বাসিন্দা মো. রাশেদ, মো. মানিক, মো. লোকমান, পুলু মারমা এবং এলাকার কারবারি সুইথি মং মারমা বলেন, “জরাজীর্ণ সাঁকো দিয়ে বছরের পর বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের পারাপারের সময় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হতো। বর্ষা এলেই সাঁকোটি ভেসে যেত। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে এই ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেছি। এখন সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি—এখানে যেন দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়।”

২নং রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংক্য মারমা বলেন, “এলাকাবাসীর সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে ঝুলন্ত বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার এই খালের উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমিও চাই দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হোক।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর কাপ্তাই উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এই খালের উপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। অচিরেই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে। আশা করছি আগামী অর্থবছরের শুরুতেই নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”

আরও পড়ুন