৮০ বছর বয়সেও সংসারের বোঝা টানেন তেজেন্দ্র লাল বিশ্বাস

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়ন এর ফেরিঘাট এলাকা। পূর্ব আকাশ হতে সু্য্যের আলোকছটা উষার আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। এরই মধ্যে ছুটে চলছেন কাঁধে আইসক্রিম এর বাক্স নিয়ে ৮০ বছর বয়সী তেজেন্দ্র লাল বিশ্বাস। রাইখালী ইউনিয়ন এর বিভিন্ন পাড়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইসক্রিম বিক্রি করবে। তপ্ত গরমে যখন ধরণীর মানুষ ওষ্ঠাগত, কিছুটাও হলেও মানুষ তাঁর আইসক্রিম খেয়ে প্রাণটা শীতল করবে। ৮০ বছর বয়সেও সংসারের বোঝা টানছেন তেজেন্দ্র লাল বিশ্বাস।

এসময় কথা হয় আইসক্রিম বিক্রেতা তেজেন্দ্র লাল বিশ্বাস এর সাথে। তিনি বলেন, তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা গ্রামে। দেশ স্বাধীন হবার ৬ থেকে ৭ বছর পর তিনি কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়ন এর কারিগর পাড়া, বড়খোলা পাড়া, রাইখালী বাজার, রিফিউজি পাড়া এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় এবং পাশ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব কোদালা গ্রামে পাড়া ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিগত ৫০ বছর ধরে আইসক্রিম বিক্রি করে সংসার চালান। আগে প্রতিটি আইসক্রিম এর বাক্সে ৫ শত হতে ৭ শত টি আইসক্রিম বহন করতে পারলেও এখন বয়সের ভারে প্রতিটি বাক্সে ১০০ টি করে আইসক্রিম বহন করতে পারি। প্রতিটি আইসক্রিম এর দাম ১০ টাকা। সারাদিনে খরচ বাদ দিয়ে ৪০০ হতে ৫০০ টাকা লাভ হয়ে।

NewsDetails_03

তিনি আরোও বলেন, এখন তাঁর বাড়িতে কেউ নাই, ৪ মেয়ে ১ ছেলে। ৪ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, ছেলে চট্টগ্রাম শহরে থাকে। প্রতিদিন ভোরে ৫ টায় চট্টগ্রাম শহর ছেলের বাসা হতে রওনা করে চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার আইসক্রিম ফ্যাক্টরি হতে আইসক্রিম এর বাক্স নিয়ে ছুটে যায় রাইখালী এলাকায়। আমার বয়স এখন আশি, আগের মতো শক্তি নেই, তবুও আইসক্রিম বিক্রি করা আমার পেশা ও নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসময় ফেরিঘাট এলাকায় কথা হয় রাইখালী ইউনিয়ন এর বড়খোলা পাড়ার বাসিন্দা ক্যসিমং এর সাথে। তিনি বলেন, আমি উনাকে বিগত ৪০ বছর ধরে এই এলাকায় আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখছি।

রিফিউজি পাড়া এলাকার মো: খোরশেদ আলম, বড়খোলা পাড়ার মো: আলম বলেন, আমরাও বিগত ২৫ বছর ধরে উনাকে এই এলাকায় আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখছি।

আরও পড়ুন